ডিজিটাল ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা তদন্তের দাবি তুললেন

অনলাইন টিকিটেও বন্ধ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

  • অনলাইনে টিকিট বিক্রি সত্ত্বেও ছুটির দিনে বন্ধ থাকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
  • যশোর ও নোয়াখালী থেকে আসা দর্শনার্থীরা আর্থিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ জানান
  • অনলাইন ত্রুটির কারণে দুঃখ প্রকাশ করে পরবর্তীতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা কর্তৃপক্ষের

অনলাইন টিকিটেও বন্ধ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
২৬ আগষ্ট, ২০২৬ ১৪:২২  
২৬ আগষ্ট, ২০২৬ ১৭:৩২  

বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবস্থার আধুনিক যুগে ডিজিটাল সেবা যখন মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করার কথা, তখন সেই অনলাইন ই-টিকিট ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই ক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। সরকার নির্ধারিত সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আগাম টিকিট বিক্রি চালু থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন।

২৬ আগস্ট, বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটির দিনে রাজধানীর কলেজগেট এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ঘুরতে এসে টিকিট বিক্রির পরও প্রবেশদ্বার বন্ধ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে সাধারণ দর্শনার্থীদের।

যশোর থেকে জুলাই জাদুঘর দেখতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, ‘আমরা জাদুঘর দেখতে যশোর থেকে এসেছি। এত দূর থেকে কষ্ট করে এসে বাচ্চাদের যদি নাই দেখাতে পারি, তাহলে দুঃখের বিষয়।’

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে আসা অপর এক দর্শনার্থী বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর দেখার জন্য এসেছি। কিন্তু হঠাৎ করে বন্ধ দেখে খুব অবাক হলাম। আজকে ছুটির দিন। এই দিনে জাদুঘর খোলা থাকবে, দর্শনার্থীরা দেখতে আসবে। যারা সরকারি-বেসরকারি চাকরি করে তারা দেখতে আসবে। কিন্তু বন্ধ। টিকিটও বিক্রি করা হয়েছে, কিন্তু এসে দেখছি বন্ধ। কর্তৃপক্ষকে আমরা ধিক্কার জানাই। তারা কোনো স্বৈরাচারের দোসর কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।’

অন্য এক দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘অনেক দূর থেকে আমার নাতি, মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে আসছি। এসে আমরা অনেক হয়রানি হয়েছি আর্থিকভাবে এবং মানসিকভাবে।’ একইভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট কিনেও ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপস্থিত অধিকাংশ দর্শনার্থী।

এদিকে টিকিট বিক্রির পরও জাদুঘর বন্ধ থাকার বিষয়ে উপস্থিত দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্যকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘টিকিট বিক্রি করেছে। তারা (জাদুঘর কর্তৃপক্ষ) বলেছে যে এই টিকিটের পরবর্তীতে প্রবেশ করতে পারবেন।’ মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘুরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে, আমরা কিছু বলতে পারব না।’

পরবর্তীতে দেখা যায়, প্রযুক্তিগত অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের বিষয়ে জাদুঘরের প্রধান ফটকে একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বন্ধ থাকবে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণবশত অনলাইনে ২৬ তারিখের কিছু টিকিট বিক্রি হয়েছে। যেসব দর্শনার্থী ইতোমধ্যে ২৬ আগস্টের টিকিট ক্রয় করেছেন, তারা পরবর্তীতে যেকোনো দিন সেই টিকিট প্রদর্শন করে জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন। আপনাদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন বৃহস্পতিবার। তবে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিন শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এটি খোলা থাকে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার বিষয়টি জানানো হয়।

এই ডিজিটাল নিবন্ধিত জাদুঘরে দর্শনার্থীদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী টিকিটের মূল্য ভিন্ন রাখা হয়েছে। বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা, ৩ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য জনপ্রতি ২,০০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা রয়েছে। যেখানে অনলাইনে ই-টিকিট ও সরাসরি নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
//ডিবিটেক/জেএনও/এমআইএস/এসএমই//