অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরে হাতাহাতি, গুরুতর আহত অপরজন আইসিইউতে ভর্তি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিনসিটিতে দুই রুশ নাগরিকের সংঘর্ষে নিহত ১

  • রোসেম-এর আল্ট্রাসনিক টেস্টিং ইন্সপেক্টর কুদরিন সার্গেই নিহত
  • আহত মেনচেভ পাবনার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিনসিটিতে দুই রুশ নাগরিকের সংঘর্ষে নিহত ১
৩ আগষ্ট, ২০২৬ ১৮:৪৭  

৩ আগস্ট, সোমবার: পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রিনসিটিতে মাতাল অবস্থায় দুই রুশ নাগরিকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্যজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে গ্রিনসিটির ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার কক্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম কুদরিন সার্গেই (৫৬)। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ট্রেস্ট রোসেম’-এ আল্ট্রাসনিক টেস্টিং ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ৬ নম্বর ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম নিকোলাই। আহত ব্যক্তির নাম মেনচেভ (৫৩), তিনিও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে দুই রুশ নাগরিক একসঙ্গে মদ্যপান করছিলেন। একপর্যায়ে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সহিংস রূপ নিলে উভয়েই গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে গ্রিনসিটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।

গ্রিনসিটি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দুই বিদেশিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাদের দ্রুত পাবনার এসোর্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কুদরিন সার্গেইয়ের মৃত্যু হয়। অন্যজন বর্তমানে উক্ত হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী অতিরিক্ত মদ্যপানের পর তাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও রাশিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।

//ডিবিটেক/ বিএসকেবি/ এমএসআই//