গবেষকদের বিনামূল্যে সর্বাধুনিক এআই মডেল দেবে ওপেনএআই
বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, গণিত ও প্রকৌশল বিদ্যাকে আরও ত্বরান্বিত করতে একটি নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ওপেনএআই। ‘চ্যাটজিপিটি ফর অ্যাকাডেমিক রিসার্চারস’ শীর্ষক এই প্রোগ্রামের অধীনে নির্বাচিত শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের বিনামূল্যে ওপেনএআই-এর তৈরি শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
কী কী সুবিধা পাবেন গবেষকেরা?
নির্বাচিত গবেষকেরা ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে সরাসরি কারিগরি সহায়তা বা হ্যান্ডস-অন সাপোর্ট পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা ওপেনএআই-এর সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ মডেল জিটিপি-৫.৬ সল প্রো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট থেকে একই প্রতিষ্ঠানের আরও চারজন সহযোগীকে যুক্ত করা যাবে।
চলতি বছরের গ্রীষ্ম মৌসুম থেকেই ১০,০০০ গবেষককে নিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হবে। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লাখে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওপেনএআই-এর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তৈরি বিশেষ সংস্করণ ‘চ্যাটজিপিটি এডু’র সাফল্যের পথ ধরেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তথ্য সুরক্ষা ও উদ্দেশ্য
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, গবেষণার তথ্য দিয়ে ওপেনএআই তাদের মডেলগুলোকে ট্রেইন করবে কি না। তবে ওপেনএআই স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে যে ডিফল্ট হিসেবে গবেষকদের কোনো গোপন বা ব্যক্তিগত তথ্য মডেলের ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে না।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে মোট ২৫ কোটি ডলার বা ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ এআই সেবা প্রদানের মাধ্যমে বহিরাগত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহায়তা করা। অবশ্য বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গবেষকদের দৈনন্দিন কাজের অভ্যাস ওপেনএআই-এর ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক গবেষণা খাত থেকে বিপুল রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
অ্যাকাডেমিক জগতে ওপেনএআই-এর পদচারণা
গবেষকদের আকর্ষণ করার চেষ্টা ওপেনএআই-এর জন্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা ‘প্রিজম’ নামের একটি বিশেষ এআই টুল চালু করেছিল। সাধারণ চ্যাটজিপিটি গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত এই টুলটি মূলত জার্নাল বা সায়েন্টিফিক পেপারের সাইটেশন যাচাই, ল্যাটেক্স ফরম্যাটিং এবং পেপারের খসড়া তৈরির মতো জটিল কাজে সাহায্য করে থাকে। নতুন এই ফ্রি অ্যাক্সেস কার্ড চালু হওয়ার ফলে ওপেনএআই-এর এআই প্রযুক্তি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এক নতুন মাত্র যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: জিএসএম এরিনা





