ল্যাব থেকে বাজারে
নভোথিয়েটারে উদ্ভাবনের বাংলাদেশ
- সৌরচালিত গাড়ি, দ্রুত চার্জের বাইক ও টেকসই সুতা
- এআই, কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশে নতুন প্রযুক্তির প্রদর্শনী
- ল্যাবের উদ্ভাবন বাজারে নেওয়ার উদ্যোগ
ঢাকার বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বসেছে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশলভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তব পণ্য ও সেবায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলায় একসঙ্গে দেখা মিলছে সৌরবিদ্যুৎচালিত যান, দ্রুত চার্জের বৈদ্যুতিক বাইক, পরিবেশবান্ধব সুতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট কৃষি, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি, কার্বন ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল কারা সেবা এবং উন্নত সৌরকোষের মতো নানা উদ্ভাবনের।
১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রত্যয়ে আয়োজিত মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাধীন গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন।
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প ও আইডিয়া জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৬৭১টি উদ্যোগ প্রদর্শনের জন্য এসেছে এবং এসব উদ্যোগের প্রায় ৭০ শতাংশই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের। মেলার বিভিন্ন স্টলে সরকারি-বেসরকারি গবেষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনও প্রদর্শিত হচ্ছে। আয়োজক-সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্যে অবশ্য ৬৭১টি জমা পড়া প্রকল্পের মধ্যে ৫০টি নির্বাচনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
সৌরবিদ্যুতে চলছে ‘সান-কার’
মেলার অন্যতম আকর্ষণ বরিশালের ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের (ইউজিভি) সৌরবিদ্যুৎচালিত ‘সানকার’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও ইইই বিভাগের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই পরিবেশবান্ধব চার চাকার বাহনটি মূলত তিন আসনের।
গাড়িটির ছাদে রয়েছে ৪০০ ওয়াটের সৌরপ্যানেল। পেছনে রয়েছে আরও ২০০ ওয়াটের সৌরপ্যানেল। ফলে মোট ৬০০ ওয়াট সৌরশক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
উদ্ভাবকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মডেল পরিবর্তন করে ছোট পরিবারের উপযোগী গাড়িও তৈরি করা হবে।
ইউজিভির মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষক মো. সাগর শরীফ জানান, ‘সানকি’ নামের এই বৈদ্যুতিক যান চলার সময় বা থেমে থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলে তা ব্যাটারিতে জমা করবে। সূর্যের আলো না থাকলে ওই ব্যাটারি থেকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বাহনটি চালানো সম্ভব হবে। এতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে।
প্রোটোটাইপটি তৈরিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে উৎপাদন খরচ আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে উদ্ভাবকদের।
১৫ হাজার টাকায় বৈদ্যুতিক বাইক
ইনোভেশন ফেয়ারে ব্যতিক্রমী আরেকটি প্রকল্প নিয়ে এসেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকেরা তৈরি করেছেন কম খরচের একটি বৈদ্যুতিক মোটরচালিত দ্বিচক্রযান।
গবেষকদের দাবি, মাত্র ৩০ মিনিটের দ্রুত চার্জে বাইকটি প্রায় ৮০ কিলোমিটার চলতে পারবে। এই দূরত্ব পাড়ি দিতে বিদ্যুৎ খরচ হবে আনুমানিক ২৫ টাকা।
প্রকল্পটির বিশেষত্ব এর মোটরে। চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্প ও ঢাকার ধোলাইখাল থেকে কম দামে সংগ্রহ করা পুরোনো ৪৪০ ভোল্টের ইন্ডাকশন মোটরকে গবেষকেরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে ৬০ ভোল্টে রূপান্তর করেছেন।
এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয়ভাবে তৈরি কপার কয়েল। কেবল কপার কয়েলেই খরচ হয়েছে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোটর তৈরিতে খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে।
ইইই বিভাগের গবেষক ইমতিয়াজ আবেদিন জানান, বাইকটির নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও তাঁদের নিজেদের তৈরি। প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে নেওয়া গেলে পুরো বাইকের দাম ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব বলে তাঁদের ধারণা।
কাশফুলে কমছে সুতার খরচ
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) প্রতিনিধিদল মেলায় টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের দুটি এবং এনার্জি প্রকৌশল বিভাগের একটি প্রকল্প উপস্থাপন করছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাশফুল ও তুলার সমন্বয়ে টেকসই সুতা তৈরির গবেষণা। টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজালাল খন্দকারের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষক ইয়াসিন আরাফাত এই গবেষণা করেছেন।
গবেষণায় কাশফুলের আঁশকে তুলার আংশিক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে সুতা তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, তুলার সঙ্গে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কাশফুল মিশিয়ে তৈরি সুতা কাপড় তৈরির উপযোগী। এমনকি ৪০ শতাংশ কাশফুলের মিশ্রণেও বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানের সুতা পাওয়া গেছে।
গবেষণায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ কাশফুল ও ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ তুলার মিশ্রণকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অনুপাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে সুতার উৎপাদন খরচ প্রায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ কমানো সম্ভব। প্রতি কেজি সুতার উৎপাদন খরচ প্রায় ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে কমে ২ দশমিক ৬৩ ডলারে নামতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এআইয়ে মাছ চাষ, মুদ্রা শনাক্তকরণ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) মেলায় ছয়টি উচ্চপ্রযুক্তির গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষ, সামুদ্রিক শৈবাল ও দেশীয় ছোট মাছ থেকে পুষ্টিকর খাদ্য তৈরি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কাগুজে মুদ্রা শনাক্তকরণ, গ্রিনহাউস গ্যাসকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর এবং প্রাকৃতিক গ্রিন টি উৎপাদন।
আবদুল্লাহ-আল মামুনের নেতৃত্বে প্রদর্শিত হয়েছে ‘অ্যাকুয়াস্মার্ট’ ও ‘অ্যাকুয়ানিউট্রি’। ‘অ্যাকুয়াস্মার্ট’ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা। ‘অ্যাকুয়ানিউট্রি’ সামুদ্রিক শৈবাল ও দেশীয় মাছকে পুষ্টিকর খাদ্যে রূপান্তরের উদ্যোগ।
সিএসটিই বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া মাজাদির নেতৃত্বে তৈরি ‘ভিশন-অ্যাসিস্ট’ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কাগুজে মুদ্রা শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। অন্যদিকে রসায়ন বিভাগের গবেষণায় গ্রিনহাউস গ্যাসকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের প্রযুক্তিও প্রদর্শিত হয়েছে।
পেরোভস্কাইট সৌরকোষ থেকে কার্বন মানচিত্র
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি) মেলায় চারটি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলিকনভিত্তিক পেরোভস্কাইট সৌরকোষ, ‘এগ্রিট্রেস বিডি’, ‘কার্বন সেতু’ এবং ‘দেশগার্ড এআই’।
পেরোভস্কাইট সৌরকোষ সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির উন্নত উপকরণভিত্তিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। একই সঙ্গে ‘এগ্রিট্রেস বিডি’ কৃষি ব্যবস্থাপনা, ‘কার্বন সেতু’ কার্বন ব্যবস্থাপনা এবং ‘দেশগার্ড এআই’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিগত সমাধানের সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
ইন্টারনেট ছাড়াই যোগাযোগ
মাভাবিপ্রবির স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে স্মার্টফোন-সহায়িত বিকেন্দ্রীভূত নোডভিত্তিক মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এই প্রযুক্তিতে প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই স্মার্টফোন ও বিকেন্দ্রীভূত নোড ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে। দুর্যোগ বা দুর্বল যোগাযোগ অবকাঠামোর পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ড্রাইভ গার্ড’ প্রকল্পে বুদ্ধিমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালকদের সহায়তা ও সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। ‘নিউট্রিকেয়ার সফটওয়্যার ফর ডায়েটারি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হেলথ কেয়ার মডেল’ স্বাস্থ্য ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সফটওয়্যারভিত্তিক সেবা দেওয়ার ধারণা তুলে ধরেছে।
এ ছাড়া রয়েছে সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি, ডুমুরের অ্যান্টিডায়াবেটিক সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা, ডুমুরভিত্তিক চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ও কার্যকরী কুকিজ উন্নয়ন এবং পাটের তন্তু দিয়ে উন্নত ও টেকসই উপকরণ তৈরির গবেষণা। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণে মেশিন লার্নিং মডেল এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির আরেকটি প্রকল্পও রয়েছে।
কারাগারেও এআই ও ক্যাশলেস প্রযুক্তি
মেলার আরেকটি ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী এসেছে কারা অধিদপ্তর থেকে। কারাবন্দিদের জন্য ভিডিও কল, বায়োমেট্রিক হাজিরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বজন যাচাই এবং আরএফআইডিনির্ভর ক্যাশলেস ক্যান্টিন ব্যবস্থার প্রদর্শনী রয়েছে সেখানে।
কারা অধিদপ্তরের ভিডিও কলিং ব্যবস্থা বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়মে বন্দিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট করে অনুমোদিত স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন।
এ ব্যবস্থায় আগে থেকে নিবন্ধিত স্বজন ছাড়া অন্য কেউ ক্যামেরার সামনে এলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল বিচ্ছিন্ন করতে পারে। ভিডিও কথোপকথন রেকর্ড করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ‘কারাপেআই’ অ্যাপের মাধ্যমে বন্দিদের স্বজনরা ঘরে বসে বন্দির হিসাবে টাকা জমা এবং ভিডিও কলের প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
অন্যদিকে ‘ক্যাশলেস প্রিজন্স’ ব্যবস্থায় স্বজনরা মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বন্দির ‘প্রিজনার্স ক্যাশ’ হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন। আরএফআইডি-সক্ষম রিস্টব্যান্ডের মাধ্যমে বন্দির অবস্থান শনাক্তকরণ, ওয়ার্ডভিত্তিক গণনা এবং নগদবিহীন ক্যান্টিন লেনদেন পরিচালনা করা হচ্ছে।
মেলার শীর্ষ উদ্ভাবনে রোবট, স্মার্ট হুইলচেয়ার
আয়োজক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত নির্বাচিত শীর্ষ উদ্ভাবনগুলোর তালিকাতেও রয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী প্রযুক্তি। এর মধ্যে আছে স্বয়ংক্রিয় শিল্পকারখানার অগ্নিনির্বাপণ রোবট, স্মার্ট হুইলচেয়ার, ডিজিটাল কার্বন অবকাঠামো প্ল্যাটফর্ম, স্মার্ট টেক্সটাইলভিত্তিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ পোশাক, পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি মুদ্রিত সার্কিট বোর্ড, মস্তিষ্কের সংকেতনির্ভর সহায়ক প্রযুক্তি এবং দ্বিভাষিক এআই সহকারীযুক্ত রোবটিক কিট।
তালিকায় আরও রয়েছে বাংলাদেশের সড়কের ক্ষয় শনাক্ত ও মাত্রা বিশ্লেষণের জন্য স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা, নিরাপদ উচ্চক্ষমতার আইওটি স্মার্ট সুইচ, ছানি অস্ত্রোপচারের কম খরচের নতুন পদ্ধতি, রোগীর চিকিৎসা মেনে চলা পর্যবেক্ষণে আইওটি-সক্ষম স্মার্ট নেবুলাইজার এবং সৌরকোষের জন্য উন্নত উপকরণভিত্তিক শক্তি প্রযুক্তি।
মেলার শীর্ষ ১০ উদ্ভাবকের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং অংশগ্রহণকারী উদ্ভাবকদের ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও মেলায় ৩৬টি নির্বাচিত উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করছে। কৃষিপণ্য, প্রাণীস্বাস্থ্য, প্রাণীজ উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও কৃষিপ্রযুক্তি নিয়ে তৈরি এসব বৈজ্ঞানিক পোস্টার ও প্রোটোটাইপের লক্ষ্য গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
সব মিলিয়ে এবারের বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার কেবল নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের আয়োজন নয়। গবেষণাগারে তৈরি ধারণাকে শিল্প, বিনিয়োগ ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই মেলাটিকে সাজানো হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষিত লক্ষ্যও হলো উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাজার প্রস্তুতির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
//ডিবিটেক/এনএপি/আইএইচ/এমআইএসটি//





