১৬ প্রকল্পে প্রস্তাবিত মোট ব্যয় ৬৫,৫১৭ কোটি টাকা || নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে মেগা উদ্যোগের অনুমোদন অপেক্ষা

একনেকে উঠছে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রকল্প

  • গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি ১৭.২০ কিমি দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট) অনুমোদন প্রক্রিয়ায়
  • প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে বৈঠক
  • ইআইবি ও এডিবির অর্থায়নে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩,৮২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা

একনেকে উঠছে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রকল্প
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১  

দেশে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) ট্রেন চালুর ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু এবং বহুল প্রতীক্ষিত এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট বাস্তবায়নসহ মোট ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের জন্য রাখা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, সভায় উঠতে যাওয়া ১৬টি প্রকল্পের (১২টি নতুন ও ৪টি সংশোধিত) মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২৫ হাজার ২৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে বৈদেশিক অর্থায়ন আসবে ৪০ হাজার ১৬৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

দেশে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন:

‘ইমপ্লিমেন্টেশন অব ইলেকট্রিক ট্রাকশন অ্যালং নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর’ প্রকল্পের আওতায় ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে এই পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ট্রেন চালু করা হবে। ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৯৪২ কোটি টাকা। বাকি অর্থ উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দেবে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট) প্রকল্প:

রাজধানীর পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্তকে যুক্ত করতে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট) নির্মাণ করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ ঋণ হিসেবে দেবে ৩০,৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং সরকারি অর্থায়ন ১৫,১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ ৩৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে।

১৭.২০ কিলোমিটারের মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩.১০ কিলোমিটার অংশ মাটির নিচ দিয়ে (১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরে) পাতালপথে যাবে। বাকি ৪.১০ কিলোমিটার (আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি) হবে উড়ালপথে। পুরো রুটে মোট ১৫টি স্টেশন (১১টি পাতাল ও ৪টি উড়াল) থাকবে। রুটটি গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাশেরকান্দিতে শেষ হবে।

টানেল বোরিং প্রযুক্তিতে পাতাল অংশ নির্মাণের ফলে জমি অধিগ্রহণের চাপ কমবে। চালু হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি যেতে সময় লাগবে মাত্র ২৮ মিনিট। শুরুতে ৬ কোচের ১৯ সেট ট্রেন ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর পর চলাচল করবে। এতে বছরে প্রায় ২১ কোটি ৪-৯ লাখ কর্মঘণ্টা ও ৪১,২২০ টন জ্বালানি সাশ্রয় হবে, যা বার্ষিক ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাবে। খরচ পুনঃপর্যালোচনায় প্রকল্প ব্যয় আগের তুলনায় ২,২১৭ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।

একনেক সভায় উপস্থাপিত অন্যান্য প্রকল্পসমূহ:

  • রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক মানোন্নয়ন প্রকল্প।

  • বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) ও খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসনসহ অবকাঠামো নির্মাণ।

  • বগুড়া হতে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)।

  • টেক্সটাইল ও লেদার সেক্টরে ওয়ার্কার্সদের ওয়ার্কিং কন্ডিশন ও সোশ্যাল প্রটেকশন উন্নয়ন।

  • মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধন)।

  • ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট (এফএসএসপি)।

  • মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনি নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন।

  • মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলা রক্ষা।

  • ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা স্থাপন (২য় সংশোধন)।

  • যক্ষ্মা, এইডস ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পগুলোর সুফল নিশ্চিত করতে অন্য গণপরিবহনের সঙ্গে মেট্রোরেল ও বৈদ্যুতিক ট্রেনের কার্যকর আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

//ডিবিটেক/জেএনও/এসএমই/এমআইএসটি//