দেশে এআই সৃষ্ট অপতথ্যের ৮৬ শতাংশ ছড়ায় ফেসবুকে : বাংলাফ্যাক্ট
সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে এখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এআই কন্টেন্ট। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপতথ্য। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ভিডিও কন্টেন্ট। গতি তিন মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এআই দিয়ে তৈরি ৭১টি ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৫৭টি ভিডিও-কেন্দ্রিক এবং ১৪টি ছবি নির্ভর। আর মাধ্যম হিসেবে এআই দিয়ে বানানো অপতথ্য ছড়ানোর শীর্ষে রয়েছে ফেসবুক।
এআই দিয়ে তৈরি বাংলাদেশ কেন্দ্রিক অপতথ্যের ৮৬ শতাংশ ছড়িয়েছে এই প্লাটফর্মটিতে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে টিকটক। এই মাধ্যমের ৪০টি এআই দিয়ে তৈরি অপতথ্য (প্রায় ৫৬%) সনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট-চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। এই ফ্যাক্টচেক দলের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত তিন মাসে সনাক্ত করা এআই জেনারেটেড ৭১টি অপতথ্যের মধ্যে ৩২টি ছিলো ইউটিউবে, ইনস্টাগ্রামে ২৮টি, এক্স-এ ১২টি এবং থ্রেডস-এ মিলেছে ১টি। আর ভাইরাল হওয়া কেন্টেন্টের শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন চটকদার ও রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত বিষয়ক কন্টেন্ট। হয়রানি ও মানহানির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এআই প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লৈঙ্গিক অসংবেদনশীল কন্টেন্টও ছড়ানো হচ্ছে এআই প্রযুক্তি দিয়ে।
পরিসংখ্যানগত পর্যালোচনায় বাংলাফ্যাক্ট দেখিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ৩৫টি কন্টেন্ট ছিল রাজনৈতিক দল নিয়ে। অর্থাৎ, প্রায় ৪৯ শতাংশ ভিডিওতে রাজনৈতিক দল বিষয়ক কন্টেন্ট। রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৬৮ শতাংশ ছিল আওয়ামীলীগকে কেন্দ্র করে, ১৭ শতাংশ বিএনপি, ৯ শতাংশ জামায়াত এবং ৬ শতাংশ এনসিপিকে নিয়ে, যদিও এই কন্টেন্টসমূহের মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিয়ে যা প্রচারিত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই আওয়ামীলীগের পক্ষের। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত কন্টেন্টগুলো দিয়ে দলটির ভূমিকা ও ভাবমূর্তিকে ইতিবাচক করে দেখানোর প্রবণতা ছিল।
দেশে এআইসৃষ্ট অপতথ্যের দ্বিতীয় নিশানায় দেখা গেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে। প্রায় ৩১ শতাংশ কন্টেন্ট ছিল এই দুই বাহিনীকে নিয়ে। ১৭ শতাংশ কন্টেন্টে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রসঙ্গে ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানের নেতাদের সম্পর্কিত বিষয় পাওয়া যায় প্রায় ১১ শতাংশ ভিডিওতে। বিভিন্ন দুর্ঘটনার সময় এআই সৃষ্ট কন্টেন্টের ছড়িয়ে পড়ার হার বৃদ্ধি পায়। গবেষণার জন্য নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনা ছিল অন্যতম। প্রায় ১০ শতাংশ এআই সৃষ্ট কন্টেন্টে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার বিষয় লক্ষ্য করা যায়।
বাংলাফ্যাক্ট দলের প্রাপ্ত নমূনাসমূহের মধ্যে লৈঙ্গিক অসংবেদনশীল বিষয় পাওয়া যায় প্রায় ১০ শতাংশ কন্টেন্টে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতা বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টাকে জড়িয়ে এআই-সৃষ্ট অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। নারী রাজনীতিবিদদের বিশেষভাবে এর লক্ষ্যবস্তু হতে দেখা যায়।







