জলবায়ু সংকটে প্রতি বছর বাস্তুচ্যুত ২০-২৫ লাখ মানুষ, বিশেষ মন্ত্রণালয়ের দাবি
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০-২৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২.৬ কোটিতে পৌঁছানোর আশঙ্কায় পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি গবেষক ও সাংবাদিকদের।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি বছর দেশে ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ১.৬ থেকে ২.৬ কোটি মানুষ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
১৮ জুন, বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কারিতাস বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন এবং অভিবাসীদের জন্য সঠিক নীতিমালা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সভায় রামরু (RMMRU) ও এসসিএমআরসহ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তারা জানান, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো জীবনধারণের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে, যার মধ্যে ৫৭ শতাংশই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা বলে জিআইজেড (GIZ)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে।
সভায় কারিতাস বাংলাদেশের পরিচালক থিউফিল নকরেক জলবায়ু বাস্তুচ্যুত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি নিরসন ও জীবনমান উন্নয়নে তাদের গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরেন। সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় সরকারের একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান এবং ডিআরইউ-এর সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ জলবায়ু অভিবাসীদের ‘ক্লাইমেট যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরতে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি বিশেষ ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষেরা শহরে এসেও অনিরাপদ আবাসন, পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অভাব এবং সামাজিক বঞ্চনার মতো তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।
কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ত্রিপুরা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. জামিল আহমেদ এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহীন হাসনাতসহ আরও অনেকেই এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই জাতীয় নীতিমালার তাগিদ দেন।
//ডিবিটেক/এসএইচ/এমআই//





