দেশজুড়ে বাছাই শেষে জাতীয় পর্যায়ে সেরা উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন, সোমবার পুরস্কার বিতরণ
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে জাতীয় মঞ্চে স্টার্টআপ প্রদর্শনী
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচির জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দল উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করছে। কর্মসূচির লক্ষ্য সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাকে উৎসাহিত করা।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছে কিশোর-তরুণ উদ্ভাবকদের মেলা। এদের কেউ এসছেন ড্রোন কিংবা রোবট নিয়ে। কেউবা এনেছেন সোলার চালিত কৃষি যন্ত্রাংশ, কেউবা বানিয়েছেন এআই অ্যালার্ট অ্যাপ। আবার সবুজ স্মার্ট নগরির ডেমোও উপস্থাপন করেছেন কেউ কেউ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচির জাতীয় পর্যায়ের এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ২৮ জুন, রবিবার সকাল থেকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন দুপুরে ঘুরে দেখেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল জাতীয় পর্যায়ের এই উদ্ভাবনী মেলায় অংশ নিচ্ছে। তারা এই মেলায় নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বৈজ্ঞানিক মডেল ও প্রযুক্তিভিত্তিক ধারণা উপস্থাপন করছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করবেন এবং নির্বাচিত দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন।
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উপযোগী নাগরিক গড়ে তোলা এবং মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে সৃজনশীল, বিশ্লেষণধর্মী ও সমস্যা-সমাধানভিত্তিক শিক্ষায় উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
দেশব্যাপী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উপজেলা, জেলা, মহানগর ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করছেন। প্রতিটি দলে রয়েছে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগর শিক্ষা এলাকায় শোকেসিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পর্যায়ে ৮ হাজার ২৯টি দলে মোট ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
পরবর্তী ধাপে উপজেলা থেকে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। ওইদিন ঢাকার জেলা পর্যায়ের আয়োজনে বিএএফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সমাধানে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত ধারণাগুলোকে উৎসাহিত করা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলাও কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতীয় পর্যায়ে প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০ দলকে ট্রফি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে “সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার” এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে “উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার” দেওয়া হবে।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষকরা ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র পাবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সক্ষমতা বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআই//





