বর্ষবরণের গানে এআইয়ের সুর
ফসল তোলা ও জমিদারের খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনের পরিবর্তে ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে (৯৬৩ হিজরি) শুরু হয় বঙ্গাব্দ। কৃষিনির্ভর জনপদ ও মোগল আমলের খাজনা আদায়ের প্রথায় পরিণত হয়
ফসলি সন বা বাংলা সন। গোলা ভরা ধানে, মিষ্টান্নে, হালখাতায় পহেলা বৈশাখ হয়ে ওঠে প্রাণের উৎসবে।
অর্থ বছর ভিন্ন হলেও এখনও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে চারদিকে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। লাল-সাদা পোশাক, শোভাযাত্রা, পান্তা ইলিশ, আর 'এসো হে বৈশাখ' গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে এই ব-দ্বীপ।
তবে সেই মুখরতায় এবার যুক্ত হলো নতুন পালক। প্রথমবারের মতো পহেলা বৈশাখের গানে সুর মিলিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই! বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের চিরাচরিত আবহের গানে এবার যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক নতুন মাত্রা - ‘ইট-পাথরের ধূসর এই শহরে, জেগেছে প্রণ আজ নতুন সাজে’।
ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন সচরাচর বৈশাখের গান মানেই ঢোল, খোল কিংবা লোকজ বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে মানুষের কণ্ঠের মিশেল। তবে এবার সেই ধারা ভেঙে নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন শ্রোতারা।
আইটি ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মিউজিকফ্লাক্স স্টুডিওর একদল তরুণ প্রযুক্তিবিদ তৈরি করেছেন এ বিশেষ গানটি। গানটির কথা ও সুর বিন্যাসে মানুষের সৃজনশীলতা থাকলেও, এর মূল কণ্ঠ এবং সংগীত পরিচালনা করা হয়েছে এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। শুনো এআই প্লাটফর্মে গানটি পূর্ণতা পেয়েছে। এটি লিখেছেন, প্রযুক্তি ব্যবসায়ী শাহ ইমরাউল কায়ীশ। সুরও করেছেন তিনি। ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় গানটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে অ্যাপল মিউজিক, স্পটি ফাই, অ্যামাজান, গানার মতো ডিস্ট্রিবিউটিং চ্যানেলেও প্রকাশ হয়েছে বাংলা নববের্ষের প্রথম এই এআই গানটি। গানটিতে ৬০টির মতো শট তৈরি করেছেন এআই দিয়ে।
গানটির নির্মাতাদলের অন্যতম সদস্য শাহ ইমরাউল কায়ীশ জানান, গানটি তৈরির আগে এআইকে বাংলার মাটির গান, লোকসংগীত এবং বৈশাখের চিরায়ত গানের সুরের ওপর প্রম্পট দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে নতুন এক সুর। এমনকি কণ্ঠস্বরটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা একই সাথে আধুনিক এবং মাটির কাছাকাছি।
আলাপকালে জানাগেলো, গত বছরের আগস্টের শেষে এআই দিয়ে বাংলা গান নিয়ে কাজ শুরু করেন ইমরাউল কায়ীশ। দুই বছর ধরে শিখে চারজন সহযোগী নিয়ে গড়ে তোলেন মিউজিকফ্লাক্স স্টুডিও। এই এআই স্টুডিও থেকে প্রথম প্রকাশ করেন তুমি তো আর আসো না ফিরে। এই গানটি দিয়েই ইউটিউব মনিটাইজেশন পেয়ে যান। এরই মধ্যে গানটি দেখা ও শোনা হয়েছে ২ লাখের বেশি বার। এরপর থেকে ধীরে ধীরে ৩৫টির মতো এআই মিউজিক ভিডিও তৈরি করেছেন তিনি।
প্রযুক্তিবিদদের দাবি, গানটিতে এআই ব্যবহার করা হলেও এর মূল আবেগে কোনো কমতি রাখা হয়নি। অন্যদিক থেকে পহেলা বৈশাখে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি গান মুক্তি পাওয়া প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির এক দারুণ মেলবন্ধন। ডিজিটাল বৈশাখের নতুন দিগন্ত পহেলা বৈশাখকে উপজীব্য করে ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিউজিকফ্লাক্সের ইউটিউবে গানটি একযোগে মুক্তি পেয়েছে।
প্রচারের পর দর্শক সাড়াও মিলছে বেশ। জাতিসত্ত্বার প্রাণের এই উৎসবে নতুন প্রযুক্তির এই সুরের ছোঁয়া কতটা দর্শকপ্রিয়তা পায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউআইএম



