মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৪  
১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৪০  

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ‘তাত্ক্ষণিকভাবে কাজের জায়গা ছেড়ে যেতে’ নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, টেসলা, ওরাকল, অ্যামাজন ও ইন্টেল। খবর এনগ্যাজেট।

বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু নকশা ও ট্র্যাকিংয়ের মূল উপাদান মার্কিন তথ্য প্রযুক্তি ও এআই কোম্পানিগুলো। এই সন্ত্রাসী অপারেশনের জবাবে, এখন থেকে সন্ত্রাসী অভিযানে কার্যকর ভূমিকা রাখা মূল প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।” হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা থেকে এই হামলা শুরু হতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দেয়। ওপেনএআইয়ের সঙ্গে পেন্টাগনের চুক্তি, অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা, ইসরায়েলের নিজস্ব এআই প্ল্যাটফর্ম—সবই ইরানের হুঁশিয়ারির কারণ বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। গত ৮ মার্চ ইরানের ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, তারা ‘অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থায়’ আছেন কিন্তু আতঙ্কিত নন। তবে হামলা বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব সারা বিশ্বের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ১০টিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার চালায়। ইরান গত কয়েক মাসে সাইবার ও ড্রোন হামলায় সক্ষমতা দেখিয়েছে। সোমবার রাতে ইরানের হ্যাকার গ্রুপ ইরান ইন্টারন্যাশনালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হ্যাক করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ডেটা চুরির চেষ্টা করে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধ সম্প্রসারণের আশঙ্কার মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি এলো। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গত সপ্তাহে বলেছিলেন, “যেকোনো মূল্যে শত্রুর অগ্রযাত্রা রোধ করতে হবে।”

ডিবিটেক/বিএমটি