সার্কুলারিটি ইন দ্য বিল্ট এনভায়রনমেন্ট সভায় বক্তারা

টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজন আবর্তনশীল পদ্ধতি ও স্বল্প কার্বন উপকরণ

টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজন আবর্তনশীল পদ্ধতি ও স্বল্প কার্বন উপকরণ
২৯ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১  

বাংলাদেশের উন্নয়ন গতি ক্রমেই বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ খাতে স্বল্প-কার্বন সামগ্রী ও আবর্তনশীল পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অবকাঠামো তৈরির নকশা থেকে ব্যবহার পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে উপকরণের একাধিকবার ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। 

২৯ মার্চ, রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সার্কুলারিটি ইন দ্য বিল্ট এনভায়রনমেন্ট’ নিয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় নির্মাণ খাতে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপেই পুরোনো উপকরণের পুনঃব্যবহার, কম কার্বন নির্গমনকারী সামগ্রী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

দেশের নির্মাণ খাতে টেকসই ও সম্পদ-দক্ষ নির্মাণ পদ্ধতি প্রচার এবং বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নির্মাণ খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এটি অত্যন্ত সম্পদনির্ভর এবং পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এই চাপ আরও বাড়বে। ফলে প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতি অব্যাহত থাকলে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ, বর্জ্য উৎপাদন এবং কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কর্মশালায় প্রকল্পের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম বলেন, ‘নির্মাণ খাত বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও পরিবেশের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমরা যদি গতানুগতিক পদ্ধতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাই, তবে তা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করবে। আমাদের সামনে সুযোগ রয়েছে টেকসই ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার।’

অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) সহায়তায় একটি ‘ন্যাশনাল গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন সিস্টেম’ তৈরির কাজ চলছে।

জার্মান দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা প্রধান উলরিখ ক্লেপমেন বলেন, ‘আবর্তনশীল পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হওয়া কেবল পরিবেশগত প্রয়োজন নয়, বরং অর্থনৈতিক সুযোগও। এর জন্য প্রয়োজন নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা।’

ইউএনওপিএস-এর কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও ভুটান) সুধীর মুরলিধরন বলেন, ‘উপকরণের পুনঃব্যবহার বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়—এটি আমাদের ঐতিহ্য। ১৯৭০-৮০ সালের বহু ভবন এখন পুরোনো হয়ে গেছে, যা প্রচুর বর্জ্য তৈরি করবে। তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে পারি।’

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং এইচবিআরআই-এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দারসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা। আর অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি-বেসরকারি খাত ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় জলবায়ু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্মাণ খাতকে সাজানোর পরামর্শ দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে ‘আবর্তনশীল অর্থনীতিকে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কর্মশালায় সহযোগী হিসেবে ছিলো জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি), ইউএনওপিএস এবং ইউএন-হ্যাবিট্যাট। 

ডিবিটেক/এসএ/ইকে