ন্যানো-ইউরিয়া ও বায়োসেন্সর উদ্ভাবনে দেশের প্রথম ন্যানো ল্যাবের ১৩তম বর্ষপূর্তি
যবিপ্রবির ন্যাম ল্যাবের এক যুগ ও আইএসও অর্জন
- গুণগত মানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সনদ আইএসও ৯০০১:২০১৫ অর্জন করেছে ন্যাম ল্যাব
- ১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, ৮ হাজার সাইটেশন এবং ৩০টির বেশি ন্যানোমেটেরিয়ালস সংশ্লেষণ সম্পন্ন
- উদ্ভাবিত স্প্রে-যোগ্য ন্যানো-ইউরিয়া সার এবং ন্যানো-বায়োসেন্সর কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি
দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও ন্যানোপ্রকৌশল গবেষণায় অনন্য অবদান রাখা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালিত দেশের প্রথম ন্যানো টেকনোলজি ল্যাব—‘ল্যাবরেটরি অব ন্যানো বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং’ (ন্যাম)-এর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ ও উন্নত মান বজায় রাখায় আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সনদ 'আইএসও ৯০০১:২০১৫' (ISO 9001:2015) অর্জন করেছে গবেষণাগারটি।
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনে ন্যাম ল্যাবের সামনে কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক ও ফলিত গবেষণার মাধ্যমে ন্যাম ল্যাব ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বৃদ্ধি করছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো মানবকল্যাণে কার্যকর অবদান রাখছে।" তিনি ল্যাবের গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নীতিগত ও অবকাঠামোগত পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণাগারটি কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। ল্যাবটির ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নালে ১০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র, ১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অ্যাবস্ট্রাক্ট এবং প্রায় ৮ হাজার সাইটেশন। বর্তমানে ল্যাবটিতে ১৭ জন গবেষক ও ২ জন পিএইচডি গবেষক কর্মরত আছেন।
ইতোমধ্যে ল্যাবটিতে ৩০টির বেশি বিশেষ ন্যানোমেটেরিয়ালস ও ২০টির বেশি উন্নত ন্যানো-কম্পোজিট তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে কৃষি খাতে কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ‘স্প্রে-যোগ্য ন্যানো-ইউরিয়া সার’ এবং দ্রুত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগ নির্ণয়ে সক্ষম ‘ন্যানো-বায়োসেন্সর’ উদ্ভাবন করে ল্যাবটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম কুড়িয়েছে। ল্যাবটি তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনের পেটেন্ট স্বত্বাধিকারের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং বিশ্বের ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও ৩টি এনজিওর সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
//ডিবিটেক/ এনএইচজেইউ/এমআইএসটি//





