‘আংকেল, রোজা রাখছেন?’

‘আংকেল, রোজা রাখছেন?’
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৩  

আংকেল আপনি রোজা রাখছেন? কয়টা রোজা রেখেছেন? নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শিশুদের এমন প্রশ্নের রিলে সয়লাব দেশের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুক। পরিকল্পিত আর অপরিকল্পিত যাই হউক দৃশ্যটা উপভোগ করছেন নেটিজেনরা। মুহূর্তে তাই ভাইরালও হয়েছে। 

ভিডিওটি ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নেভি হেডকোয়ার্টার মসজিদের সামনে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ আলাপচারিতার।

ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ পোশাকে জুমার নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর নৌবাহিনী সদরদপ্তর মসজিদের সামনে তখন এক অন্যরকম আবহ। কোনো প্রটোকল বা গাম্ভীর্য নয়, বরং শিশুদের সঙ্গে পরম মমতায় মিশে গেলেন দেশের সরকার প্রধান।

নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হতেই একঝাঁক কৌতূহলী চোখের মুখোমুখি হলেন তিনি। 

মসজিদ চত্বরে প্রধানমন্ত্রীকে দেখা মাত্রই একদল শিশু-কিশোর তাকে ঘিরে ধরে। শিশুদের চোখেমুখে তখন বিস্ময় আর আনন্দ। এরই মধ্যে একজন সাহসী হয়ে প্রশ্ন করে বসলো ‘আংকেল, আপনি কি রোজা রেখেছেন?’ শিশুর এ নিষ্পাপ প্রশ্নে মুচকি হাসলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরম মমতায় উত্তর দিলেন ‘জ্বি, আমি সবগুলো রোজা রেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রীর উত্তর শুনে উপস্থিত শিশুদের মধ্যেও শুরু হয় রোজা রাখার গল্প। একে একে সবাই বলতে শুরু করে তারা কে কয়টি রোজা রেখেছে। এক শিশু বেশ বুক ফুলিয়ে দাবি করলো সে সবগুলো রোজা রেখেছে।

কিন্তু বিপত্তি বাধলো তার বন্ধুদের মন্তব্যে। পাশ থেকে বন্ধুরা একযোগে বলে উঠলো ‘না না, ও তো আজ সকালেই খেয়েছে, ও আজ রোজা নেই!’ বন্ধুদের এমন ‘ফাঁস’ করে দেওয়া মন্তব্যে শিশুটি কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়লেও তারেক রহমান হাসিমুখে তাকে কাছে টেনে নেন। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে জানতে চান আসলে সে কয়টি রোজা রেখেছে। তখন শিশুটি লাজুক কণ্ঠে স্বীকার করে ‘আজকের একটা রোজা বাদে সবগুলোই রেখেছি।’

শিশুদের এ সরলতা আর রোজা রাখার প্রচেষ্টায় মুগ্ধ হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিশুদের এ ধর্মীয় অনুরাগের প্রশংসা করেন। উপস্থিত প্রতিটি শিশুর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেন তিনি। দেশের সরকার প্রধানকে এতটা কাছে পেয়ে এবং তার সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলতে পেরে শিশুদের আনন্দের সীমা ছিল না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে নেটিজেনরা বলছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এমন সাবলীল ও মানবিক আচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়।

ডিবিটেক/এফবিপি/এমইউএম