যেভাবে হারিয়ে গেল মিনি ডিসপ্লেপোর্ট!
একসময়ে ল্যাপটপ বা ছোট আকৃতির কম্পিউটারে ভিডিও আউটপুটের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল মিনি ডিসপ্লেপোর্ট। ঐতিহ্যবাহী ভিজিএ এবং ডিভিআই পোর্টের বিকল্প হিসেবে ২০০৮ সালে অ্যাপল প্রথম এটি বাজারে নিয়ে এসেছিল।
বেশ কয়েক বছর ধরে ম্যাকবুকের বিভিন্ন মডেলে এটি নিয়মিত দেখা গেলেও বর্তমানের আধুনিক কম্পিউটারগুলোতে এই পোর্ট খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। এমনকি খোদ অ্যাপলও তাদের ম্যাক কম্পিউটার থেকে এই পোর্টটি সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মিনি ডিসপ্লেপোর্টের এই বিলুপ্তির অর্থ এই নয় যে সামগ্রিक ডিসপ্লেপোর্ট প্রযুক্তিটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। মূলত সংযোগের ধরনে পরিবর্তন আসায় এর ছোট সংস্করণটি ব্যাকডেটেড হয়ে পড়েছে।
কেন হারিয়ে গেল মিনি ডিসপ্লেপোর্ট?
পূর্ণাঙ্গ ডিসপ্লেপোর্টের সমস্ত মূল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই আকারে ছোট হওয়ায় ম্যাকবুক বা ম্যাক মিনি-র মতো স্লিম ডিভাইসে এটি ব্যবহার করা সহজ ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যখন থান্ডারবোল্ট ও ইউএসবি-সি প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটল, তখন পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায়।
বিশেষ করে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের দিকে থান্ডারবোল্ট ৩ এবং ইউএসবি-সি স্ট্যান্ডার্ড চালু হওয়ার পর পিসি নির্মাতারা দ্রুত এই নতুন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে। মিনি ডিসপ্লেপোর্ট কেবল ভিডিও ও অডিও বহন করতে পারলেও, ইউএসবি-সি পোর্টের মাধ্যমে একই সাথে উচ্চগতির ডেটা ট্রান্সফার, অডিও, ভিডিও এবং থান্ডারবোল্ট প্রোটোকল ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ইউএসবি-সি পোর্টের 'ডিসপ্লেপোর্ট অল্টারনেট মোড' আসার কারণে নির্মাতাদের আর আলাদা করে মিনি ডিসপ্লেপোর্টের ওপর নির্ভর করতে হয়নি।
কোথায় এখনো টিকে আছে ডিসপ্লেপোর্ট স্ট্যান্ডার্ড?
মিনি সংস্করণটি হারিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ বা স্ট্যান্ডার্ড সাইজের ডিসপ্লেপোর্ট এখনো বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে হাই-এন্ড গেমিং মনিটর, ওয়ার্কস্টেশন এবং আধুনিক গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষেত্রে এটি এখনও অপরিহার্য।
উচ্চ রেজোলিউশন এবং রিফ্রেশ রেট (যেমন- ৮কে রেজোলিউশন বা ২৪০ হার্জ রিফ্রেশ রেট) টিকিয়ে রাখতে এইচডিএমআইয়ের পাশাপাশি ডিসপ্লেপোর্টের উচ্চ ব্যান্ডউইথ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পুরোনো হার্ডওয়্যার ব্যবহারকারীরা অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি চালিয়ে গেলেও, নতুন ডিভাইসের বাজারে ইউএসবি-সি ও থান্ডারবোল্টের জয়জয়কার প্রমাণ করে যে মিনি ডিসপ্লেপোর্টের সোনালী দিন এখন পুরোপুরি অতীত।
ডিবিটেক/বিএমটি





