সৌদি রুট স্থগিত, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের কাটছাঁট
নিরাপত্তা ও মন্দায় বদলাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
- সৌদি আরবের পরিস্থিতিতে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত
- আমেরিকান এয়ারলাইন্স এ বছর তিনটি গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ করেছে
- ২০২৭ সালে সাতটি নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রত্যাশিত যাত্রী না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স চলতি বছরে তিনটি প্রধান গন্তব্যে ফ্লাইট সেবা বন্ধ করেছে। একদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি, অন্যদিকে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা—দুই কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের রুট ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে।
১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং সংশোধিত সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বিমান। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় মদিনা রুটে উড়োজাহাজের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
বিমান জানিয়েছে, মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা ১৪৮টি বেড়েছে। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রুটে যাত্রার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত করার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে সরবরাহ করা প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা নিয়ে অসামঞ্জস্য রয়েছে। মূল বিজ্ঞপ্তির বিবরণে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও সংযুক্ত শিরোনামগুলোতে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকার উল্লেখ রয়েছে। যাত্রীদের জন্য কার্যকর সময়সীমা নিশ্চিত করতে বিমানের সর্বশেষ ঘোষণা অনুসরণ করা জরুরি।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রত্যাশার তুলনায় কম ব্যবসার কারণে আমেরিকান এয়ারলাইন্স চলতি বছরে তিনটি প্রধান গন্তব্যে ফ্লাইট সেবা বন্ধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্য এবং দুটি আন্তর্জাতিক গন্তব্য। বন্ধ হওয়া রুটগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম দীর্ঘ দূরত্বের বিরতিহীন ফ্লাইটও ছিল।
টেক্সাসভিত্তিক এই বিমান সংস্থা বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়া বিমানবন্দর (এসএমএক্স) এবং গত আগস্টে মেক্সিকোর টিজুয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত ছিল কাতারের দোহায় হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের ফ্লাইট সেবা স্থগিত করা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং প্রত্যাশিত ব্যবসা না হওয়ায় গত মার্চে ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দোহার উদ্দেশে পরিচালিত ১৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের বিরতিহীন ফ্লাইটটি বাতিল করে আমেরিকান এয়ারলাইন্স। ৬ হাজার ৭৯৮ মাইল দীর্ঘ এই রুটটি ছিল ফিলাডেলফিয়া থেকে সংস্থাটির পরিচালিত সবচেয়ে দীর্ঘ ফ্লাইট। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের জোটসঙ্গী কাতার এয়ারওয়েজ আগস্ট থেকে ফিলাডেলফিয়া–দোহা রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক রুটে সেবা স্থগিতের ঘটনা শুধু আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও সেবা স্থগিত করেছে। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইট বন্ধ করেছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্স। ওই রুটে ফ্লাইট চলাচল ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক না হওয়ায় ফিনিক্স থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়াগামী রুটও বন্ধ করেছে সংস্থাটি। সান্তা মারিয়া রুটটি ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত চালু ছিল। পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রুটটি বন্ধ করা হয়।
তবে চলতি বছরে কয়েকটি রুট বন্ধ করলেও ২০২৭ সাল থেকে সাতটি নতুন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স। নতুন রুটগুলোর মধ্যে ফিলাডেলফিয়া থেকে পর্তুগালের পোর্তো, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুটি সংস্থার সিদ্ধান্তের কারণ এক নয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের রুট পুনর্বিন্যাসে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি যাত্রীসংখ্যা ও ব্যবসায়িক লাভজনকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে নিরাপত্তা, চাহিদা ও পরিচালন ব্যয়ের প্রভাব তুলে ধরে।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমপি/এমভিএনও//





