প্রথম ফ্রন্টিয়ার মডেল ‘মিউজ ওয়ান্ডার’ আনলো মেটা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন এক অধ্যায় শুরু করলো ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটির সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাব সম্প্রতি ‘মিউজ ওয়ান্ডার’ এবং ‘মিউজ ওয়ান্ডার ফুল’ নামের দুটি অত্যাধুনিক মডেল উন্মোচন করেছে।
এর মাধ্যমে মেটা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শীর্ষস্থানীয় বা ফ্রন্টিয়ার মডেল বাজারে নিয়ে এল।
এর আগে হালকা ও দ্রুতগতির ‘মিউজ স্পার্ক’ মডেল বাজারে আনলেও নতুন এই ওয়ান্ডার মডেলগুলো আকারে বড়, অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন এবং কোডিংয়ের মতো জটিল কাজ সুচারুভাবে সম্পাদনে অনন্য পারদর্শিতা প্রদর্শন করছে।
মেটার নিজস্ব পরীক্ষা অনুযায়ী, এই মডেলগুলোর কার্যক্ষমতা বর্তমান বাজারের শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর সমকক্ষ।
দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিশক্তি ও বিশেষ প্রযুক্তি
মেটার নতুন এই মডেলগুলোর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিশক্তি বা ‘অ্যাক্টিভ মেমোরি’ প্রযুক্তি। ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য দিন, সপ্তাহ, মাস কিংবা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে মনে রাখতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এতে। বিশেষ বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় এটি অন্যান্য শীর্ষ মডেলগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।
গবেষকদের মতে, ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দগুলো নিখুঁতভাবে মনে রেখে সেবা প্রদানে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে। গত বছর মেটার এআই কার্যক্রম পুনর্গঠিত হওয়ার পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের প্রমিথিউস ডেটা সেন্টারে এই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
মূল্য ও ব্যবহারের পরিধি
বাজারের অন্যান্য শীর্ষ মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে মেটা এই মডেলগুলোর সুনির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করেছে। এপিআই-এর মাধ্যমে ‘ওয়ান্ডার’ মডেলটি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট টোকেন মূল্যে পাওয়া যাবে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তিগুলোর কাছাকাছি।
তবে এর আরও উন্নত সংস্করণটি নির্দিষ্ট গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশনের আওতায় সরবরাহ করা হবে। সার্বিকভাবে মেটার এই শক্তিশালী মডেলের সংযোজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





