বাণিজ্য মেলার জমি ফেরতের দাবিতে প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শেকৃবির বিক্ষোভ

  • শেকৃবির গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবের প্রতিবাদে রাজপথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
  • পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮.১৩ একর জমি শেকৃবিকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি
  • ২৯৮ একর থেকে শেকৃবির জমি কমে ৮৭ একরে নামায় কৃষি গবেষণা ব্যাহত

গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শেকৃবির বিক্ষোভ
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০১  

কৃষি গবেষণার জন্য চরম জমি সংকটের মুখে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ঐতিহ্যবাহী গবেষণা মাঠে নতুন সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি প্রস্তাবনাকে পরিবেশ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজপথে নেমেছেন তারা। ‘

গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটি’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রাজধানীতে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করে।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সম্পত্তি। তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসমতি সত্ত্বেও ২৮.১৩ একর জমি বাণিজ্য মেলার জন্য নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর জমিটি শিক্ষা ও এগ্রিটেক গবেষণায় ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হলেও সেখানে নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল মাস্টারপ্ল্যান, জিয়া উদ্যানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, প্রত্নসম্পদ আইন ১৯৬৮, বিএনবিসি ২০২০ এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ অনুযায়ী রাজধানী ও শেরেবাংলা নগরের উন্মুক্ত সবুজ প্রাঙ্গণ ধ্বংস করে সচিবালয় নির্মাণ পরিবেশের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত নথিতে বলা হয়, ১৯২০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কৃষিশিক্ষার প্রসারে ‘বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’-এর নামে ২৯৮.৪৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে জমি হাতছাড়া হতে হতে বর্তমানে শেকৃবির আয়তন মাত্র ৮৭ একরে সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে আধুনিক এগ্রোনমি, বায়োটকনোলজি ও হাতে-কলমে মাঠভিত্তিক কৃষি গবেষণা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জমি সংকট নিরসন এবং গবেষণা মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন থামবে না। দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর ও জোরালো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে স্টিয়ারিং কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

//ডিবিটেক/ইএইচএম/এসএমপি/ওইএম//