শাটডাউনে থমথমে ক্যাম্পাস সাবেক ভিসির পুনর্বহালের দাবি
ভিসির ভিডিও বার্তায় ফুঁসে উঠেছে চুয়েট শিক্ষার্থীরা
- চুয়েটে চলছে সর্বাত্মক শাটডাউন ও সব পরীক্ষা বর্জন
- ভিসির ‘অসত্য’ মন্তব্যের প্রতিবাদে ভিডিও তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা
- আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের একদফা দাবিতে অটল আন্দোলনকারীরা
ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছে ‘অবাঞ্ছিত’ নতুন উপাচার্যের বিতর্কিত ভিডিও বার্তায় চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের দেওয়া বক্তব্যকে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গভীর প্রশাসনিক সংকটের সমাধান হতে হবে সত্য, জবাবদিহি ও সকল অংশীজনের আস্থার ভিত্তিতে। ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর নতুন ভিসি ও তাঁর সহযোগীদের ক্যাম্পাস ছাড়ার পর বর্তমানে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন ও কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। চুয়েট শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন এবং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতির ব্যানার দরজার সামনে টাঙানো রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টানা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এ পুরো ক্যাম্পাস এখন থমথমে নীরবতায় রূপ নিয়েছে।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থানকালে উপাচার্য ও তাঁর সহযোগীদের প্রতি পূর্ণ মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁদের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়, জরুরি ওষুধের প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হয় এবং মেডিকেল টিমের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপাচার্যের প্রচারিত ভিন্ন ও অসত্য তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ধারণকৃত ভিডিও নথি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
উপাচার্যের শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানান, উপস্থিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে, উপাচার্য ক্যাম্পাসে আর ফিরে আসবেন না—এই শর্তেই তাঁকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। উপস্থিত গণমাধ্যমের সামনে এই শর্ত ৩ বার ঘোষণার সময় উপাচার্য বা তাঁর সঙ্গে থাকা বাকি ৯ জনের কেউ বিরোধিতা করেননি। তবে পরবর্তীতে তাঁর পুনরায় ক্যাম্পাসে ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করে বক্তব্য দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তিনি ফিরতে চাইলে আন্দোলন আরও কঠোর আকার ধারণ করবে।
শিক্ষার্থীদের এক দফা এক দাবি—সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের দ্রুত পুনর্বহাল। এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পূর্বে ঘোষিত সর্বাত্মক শাটডাউন এবং ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের মানবিকতাকে দুর্বলতা, সংযমকে পরাজয় কিংবা নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগকে আন্দোলনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চুয়েটের মর্যাদা, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা এবং ন্যায্য দাবির প্রশ্নে আমাদের অবস্থান দৃঢ়। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে এই এক দফা দাবি আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
//ডিবিটেক/সিআরএইচ/এসএমপি/ওইএম//





