১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা
প্রশ্নফাঁসের তদন্ত কমিটি বাতিলের দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর
- সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল
- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
- প্রহসনের তদন্ত কমিটি বাতিল চেয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর
সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ত্রুটি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ১০ অক্টোবর, শনিবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি মন্তব্য করেন, যারা সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরই তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি এ নাটকীয় তদন্ত কমিটি বাতিলের আহ্বান জানান।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় সারাদেশে একযোগে এ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে হুবহু প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে চাকরিপ্রত্যাশীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) যুগ্ম সচিব ডিএম আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁসের বিষয়টি নজরে আসার পরই স্বচ্ছতা রক্ষার্থে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। স্থগিত হওয়া এ নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার বিকেল ৩টায় নতুন সূচিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরীক্ষার্থীদের এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।
ঘটনার উৎস অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/এফবিপি/এসএমই/এমএনও//





