কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে যুক্ত হবে কোটি তরুণের কর্মসংস্থান

ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে ঐতিহাসিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার

  • বেকারদের জন্য কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ ও ১৯ জেলায় অফিস স্থাপন হচ্ছে
  • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আগামী ডিসেম্বরে পাইলট প্রজেক্ট শুরু করবে
  • বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জব ফেয়ার থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হবে

ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে ঐতিহাসিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৩  

দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে শিল্পকারখানার টেকসই সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’। বর্তমান সরকারের নির্বাচনের সময় ঘোষিত এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নে এটি একটি আধুনিক ও স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক টেকনোলজি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এ উদ্যোগের আওতায় দেশের পুরো বেকার জনগোষ্ঠীর একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভান্ডার বা ডেটাবেজ তৈরি করা হবে, যা সার্বিক কর্মসংস্থান পরিকল্পনাকে আরও গতিশীল করবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সেন্টারের প্রধান কার্যালয় রাজধানী ঢাকায় স্থাপন করা হবে। সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পুরাতন ১৯টি জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় থাকবে, ফলে তৃণমূল পর্যায়ের চাকরিপ্রার্থীরা সহজেই এই ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হতে পারবেন। এ সংক্রান্ত খসড়া রূপরেখা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

নতুন এই সেন্টারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের চাহিদামাফিক আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যাতে তারা দেশীয় শিল্পকারখানার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারের উপযোগী হয়ে গড়ে উঠতে পারেন। এর ফলে সরকারি, বেসরকারি ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে এবং অটোমেটেড অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শিল্পমালিকরা সহজে দক্ষ জনবল খুঁজে পাবেন।

কাজের সুবিধার্থে প্রথম পর্যায়ে ঢাকা ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুরে আঞ্চলিক কেন্দ্র থাকবে। এই সেন্টারের অনলাইন পোর্টাল, ডাটাবেজ অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার ব্যয় বহন করবে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বিআইডিএ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জব পোর্টাল এর অংশীদার হিসেবে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

কর্মসংস্থান পরিকল্পনার তথ্য জানিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে যাচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’। দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ইন্ডাস্ট্রি থেকে শ্রমিক-কর্মীদের চাহিদা চিহ্নিত করে একটি অনলাইন ও অফলাইন ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সরাসরি ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।

//ডিবিটেক/ডিএডিওএন/এমভিএনও/এমআইএসটি//