৮০ তরুণের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

তরুণদের এআই দক্ষতা গড়ছে গ্রামীণফোন একাডেমি

  • সারাদেশ থেকে ২১০টির বেশি আবেদনের মধ্য থেকে ৮০ জন নির্বাচিত হন
  • ট্রেজেক্টরি, মাইজিপি কেয়ার ও প্রজেক্ট লাইফলাইন সেরা তিন দল
  • বিজয়ী দলগুলো এক বছর বিনামূল্যে প্রিমিয়াম এআই টুলস ব্যবহারের সুযোগ পাবে

তরুণদের এআই দক্ষতা গড়ছে গ্রামীণফোন একাডেমি
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০২  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরি ও ডিজিটাল পণ্য উদ্ভাবনে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে এআই বুটক্যাম্পের আয়োজন করেছে গ্রামীণফোনের বিনামূল্যের অনলাইন শিক্ষামঞ্চ গ্রামীণফোন একাডেমি। এতে নির্বাচিত ৮০ জন অংশগ্রহণকারী হাতে-কলমে শেখার পাশাপাশি নিজেদের ধারণাকে এআই-চালিত ডিজিটাল সমাধানে রূপ দেওয়ার সুযোগ পান। গ্রামীণফোনের এআই অ্যান্ড আই কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাডেমির বৃহত্তর এআই মিশনের আওতায় আয়োজিত এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে গত ১২ অক্টোবর জিপিহাউজে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত উপস্থাপনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

অংশগ্রহণকারীদের শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ দিতে গ্রামীণফোন একাডেমি আয়োজন করে ‘নো-কোড এআই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কম্পিটিশন’। এতে আগের কোনো প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধু এআই প্রম্পট ব্যবহার করে কার্যকর ওয়েবসাইট তৈরির চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়। সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিযোগিতাটিতে ২১০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে ৮০ জনকে বাছাই করে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় নিবিড় এআই বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

‘আইডিয়েট, বিল্ড, টেস্ট’ বা ধারণা তৈরি, নির্মাণ ও পরীক্ষা—এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করা, এআই-চালিত সমাধান তৈরি এবং সেগুলোকে ন্যূনতম কার্যকর পণ্য বা মিনিমাম ভায়াবল প্রোডাক্ট (এমভিপি) হিসেবে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। কর্মসূচির মূল তিনটি ক্ষেত্র ছিল ক্যারিয়ার, দক্ষতা ও মাইজিপি।

বুটক্যাম্পের শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত পিচিং বা প্রকল্প উপস্থাপনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের উদ্ভাবিত সমাধান তুলে ধরেন। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘ট্রেজেক্টরি’ প্ল্যাটফর্ম নির্মাতা দল। এআই-চালিত এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের দক্ষতা ও জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়ন করে। এরপর ব্যক্তিভেদে ক্যারিয়ার পরামর্শ, প্রশিক্ষণের সুপারিশ এবং সম্ভাব্য কর্মজীবনের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেয়।

প্রথম রানার্স-আপ হয় ‘মাইজিপি কেয়ার’ প্ল্যাটফর্ম নির্মাতা দল। এআই-চালিত এই স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম স্মার্ট কেয়ার নেভিগেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিশ্বস্ত চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় রানার্স-আপ হয়েছে ‘প্রজেক্ট লাইফলাইন’ নির্মাতা দল। এটি এআই-সহায়তায় তৈরি ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতিবিষয়ক একটি প্ল্যাটফর্ম। জরুরি মুহূর্তে ব্যবহারকারীরা যাতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সমাধানটি তৈরি করা হয়েছে।

সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি বিজয়ী দলই এক বছরের জন্য বিনামূল্যে প্রিমিয়াম এআই টুলস ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পাবে তারা, যাতে নিজেদের ধারণাকে কর্মসংস্থানের উপযোগী, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধানে রূপ দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান, চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অফিসার আন্দ্রেয়াস হগবার্গ এবং হেড অব এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম। এ ছাড়া গ্রামীণফোনের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং গ্রামীণফোন একাডেমির শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্যোগটি সম্পর্কে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, “এআই যেভাবে আমাদের শেখার, কাজ করার এবং নতুন সুযোগ তৈরি করার ধরনগুলো বদলে দিচ্ছে, তাতে এই রূপান্তরে অংশ নেওয়ার জন্য তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণফোনে আমাদের এআই অ্যান্ড আই কর্মকৌশলে এই ভাবধারাটিই প্রতিফলিত হয়; যেখানে এআই আর কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের কর্মী, কার্যক্রম এবং হাইপার-পার্সোনালাইজড গ্রাহক অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

“আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ শুধু এআই-এর ওপর নির্ভর করছে না, বরং নির্ভর করছে তাদের ওপর, যারা এটিকে দায়িত্বশীল ও অর্থবহভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। গ্রামীণফোনের ভেতরে আমরা যেমন ভবিষ্যৎ-উপযোগী সক্ষমতা তৈরি করছি, ঠিক তেমনি এই লক্ষ্যকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে সমানভাবে সংকল্পবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা যেন সুযোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা থাকলে তরুণরা যেখানেই থাকুন না কেন, স্থানীয় ও বৈশ্বিক—উভয় বাজারেই সফল হতে পারেন।

“গ্রামীণফোন একাডেমির মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য শুধু শেখার সুযোগ তৈরি করা নয়, বরং তরুণরা যেন তাদের জ্ঞান প্রয়োগ করার, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান করার এবং অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা। এআই বুটক্যাম্পটি সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। এটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভাবনাকে বাস্তবভিত্তিক সমাধানে রূপান্তর করার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান এআই-চালিত বিশ্বে সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করবে।”

//ডিবিটেক/এমএমএফআরপি/এসভিপি/এমআইএসটি//