চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপাচার্য শরীফুল আলম
ক্যাম্পাসে না ঢোকার বিবৃতি দেইনি: চুয়েট উপাচার্য
- "ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করব না"—এমন কোনো বিবৃতি দেননি বলে জানান অবরুদ্ধ মুক্ত চুয়েট উপাচার্য
- অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের পর উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলমকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি
- শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে মেডিকেল বোর্ড গঠন, ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পর "ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ না করার শর্তে মুক্তি পেয়েছি"—এমন তথ্য অসংগতিপূর্ণ এবং তিনি এ ধরণের কোনো বিবৃতি দেননি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় উদ্ধার করার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
উদ্ধারের পরপরই শারীরিকভাবে অসুস্থ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তাঁকে ২৪ ঘণ্টা জরুরি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁর সার্বিক শারীরিক অবস্থা ও হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা নিখুঁতভাবে যাচাই করতে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন জরুরি মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন শেষে বুধবার তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কিত চূড়ান্ত আপডেট রিপোর্ট প্রদান করবেন।
তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় “ভবিষ্যতে আর উপাচার্য হিসেবে ক্যাম্পাসে আসব না”—এমন কোণ লিখিত বা মৌখিক চুক্তি এবং বিবৃতি দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় তাকে প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ওই দিনের চরম উত্তেজনার অবসান ঘটে।
উপাচার্য নিয়োগ ও পুনর্বহাল ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চুয়েটে চরম প্রশাসনিক ও একাডেমিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনও একযোগে বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে আসছে, যার ফলে শীর্ষ এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
//ডিবিটেক/মো: রাকিব হাসান/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//





