এনগেজিং বিজনেস ফোরামে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির বার্তা

এআই কাজের অটোমেশন করলেও জবাবদিহি সম্ভব নয়

  • এআই কর্মক্ষেত্রের কাজ স্বয়ংক্রিয় করলেও মানুষের সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহির পরিপূরক হতে পারে না
  • শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অংশীদারিত্ব বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ
  • সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড.
    এআই কাজের অটোমেশন করলেও জবাবদিহি সম্ভব নয়
    ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৯  

    কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগ দ্রুত বাড়লেও শ্রমজীবীদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “এআই কাজের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই নীতিগত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে না।”

    আমেরিকার নিউইয়র্কে বার্ষিক ‘১৬তম এনগেজিং বিজনেস ফোরাম’-এ “এআই অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ক: আ হিউম্যান রাইটস ইমপারেটিভ” শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ মূল অধিবেশনে মূলবক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব তথ্য ব্যক্ত করেন।

    ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির অফিশিয়াল ও ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মাধ্যমে তার মূল বক্তব্যের এই সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়।

    ড. খলিলুর রহমান জানান, এআই প্রযুক্তির আধুনিক প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে অভাবনীয় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করছে। তবে কর্মী নিয়োগ, কর্মপরিবেশের ট্র্যাকিং, কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানসংক্রান্ত স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অ্যালগরিদমের এই ক্রমবর্ধমান ব্যবহারে ডেটা প্রাইভেসি, স্বচ্ছতা ও বৈষম্যহীন জবাবদিহি নিয়ে বিশ্বজুড়ে জটিল প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

    এআই ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি প্রয়োগ প্রক্রিয়ায় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোকে তাঁদের কর্মচারীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার জোরালো তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে প্রাতিষ্ঠানিক অ্যালগরিদম ও এআই মডেলের নেওয়া সিদ্ধান্ত যা কর্মীদের জীবিকা ও পেশাগত ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার ও পুনর্বিবেচনার অর্থবহ অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সাধারণ পরিষদ সভাপতি।

    এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারে সাইবার আক্রমণ, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক আর্থিক খাতের ঝুঁকির যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় সরকার ও শিল্প খাতের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয় ফোরামে। জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ‘গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট’-এর নীতি অনুসরণ করে আধুনিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি প্রতিটি শ্রমিকের অধিকারের কার্যকর আইনগত সুরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন ড. খলিলুর রহমান।

    //ডিবিটেক/ইউএনসিপিজিএ/এসএমপি/ওইএম//