অ্যাপোলো-জেএমআইয়ের যৌথ উদ্যোগ
শিশু চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময় ঢাকায়
- শিশু ইউরোলজি ও অর্থোপেডিকসের আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে সেমিনারে আলোচনা
- ধানমন্ডির অ্যাপোলো ক্লিনিকে ২২ হাজারের বেশি বহির্বিভাগের রোগীকে সেবা
- অস্ত্রোপচার পরবর্তী সংক্রমণের হার ১ শতাংশের নিচে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি
শিশুদের ইউরোলজি ও অর্থোপেডিকস চিকিৎসায় সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং অস্ত্রোপচার পদ্ধতি নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কন্টিনিউয়িং মেডিকেল এডুকেশন (সিএমই) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হসপিটালস ও অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈজ্ঞানিক সেমিনারে দেশের প্রায় ১০০ জন চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের আবাসিক চিকিৎসক এবং কনসালট্যান্ট অংশ নেন। আয়োজনটির লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অ্যাপোলো ক্লিনিক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির স্থানীয় অংশীদার অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডি, যার লাইসেন্সি জেএমআই স্পেশালাইজড হসপিটাল পিএলসি। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা শিশু ইউরোলজি ও শিশু অর্থোপেডিকস সার্জারির আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সেমিনারে দুটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটি ছিল ‘কারেন্ট কনসেপ্ট ইন হিপ ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড ম্যালিগন্যান্ট বোন টিউমার ইন চিলড্রেন’ এবং অন্যটি ‘এ প্যারাডাইম শিফট ইন পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি’। সেশনগুলোতে শিশুদের নিতম্বের বিভিন্ন সমস্যা, ম্যালিগন্যান্ট হাড়ের টিউমার এবং শিশু ইউরোলজির চিকিৎসায় পরিবর্তনশীল ধারণা ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।
চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের শিশু ইউরোলজি সার্জন ডা. জিমি শ্যাদ এবং শিশু অর্থোপেডিকস সার্জন ডা. শাংকার আর. মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. তামজীদ আলম।
অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির সাম্প্রতিক চিকিৎসাসেবা ও কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ক্লিনিকটি ২২ হাজারের বেশি বহির্বিভাগের (ওপিডি) রোগীকে সেবা দিয়েছে, ২ হাজার ৫০০-এর বেশি অন্তর্বিভাগের (আইপিডি) কেস পরিচালনা করেছে এবং ১ হাজারের বেশি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সংক্রমণ বা সার্জিক্যাল সাইট ইনফেকশনের (এসএসআই) হার ১ শতাংশের নিচে। রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান মূল্যায়নে এ ধরনের সংক্রমণের হার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে এ পরিসংখ্যানের সময়সীমা ও হিসাবের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
জেএমআই স্পেশালাইজড হসপিটাল পিএলসি এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক অ্যাপোলো হসপিটালসের যৌথ অংশীদারিত্বের লক্ষ্য বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কমিয়ে দেশের ভেতরেই সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। আয়োজকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এ সহযোগিতা বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশে চিকিৎসা পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে।
//ডিবিটেক/জেএজেএমআই/এসএমপি/ওইএম//





