বিশ্ব মান দিবসে বিএসটিআই চট্টগ্রামের আলোচনা সভা

জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও নিয়মিত এনার্জি অডিটের তাগিদ চুয়েট অধ্যাপকের

  • ২০৩০ সালে ২০ ও ২০৪১ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনে মাননিয়ন্ত্রণে জোর
  • কিউআর কোড, হটলাইন ১৬১১৯ ও আধুনিক ল্যাবে মিলছে বিএসটিআইর ডিজিটাল সেবা
  • কোনো অবস্থাতেই পণ্যের মানে আপস না করে লাইসেন্স দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা

জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও নিয়মিত এনার্জি অডিটের তাগিদ চুয়েট অধ্যাপকের
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৩৫  

বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত এনার্জি অডিট পরিচালনার তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজির (আইইটি) পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। ১৪ অক্টোবর, বুধবার বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

নগরীর আগ্রাবাদের জাম্বুরি মাঠ সংলগ্ন বিএসটিআই সম্মেলন কক্ষে ‘উন্নত বিশ্বের জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআই চট্টগ্রামের অফিস প্রধান ও উপপরিচালক (মেট্রোলজি) মো. মোমেন উস সাজ্জাদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম।

মূল প্রবন্ধে ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ এসডিজির ৭ নম্বর অভীষ্ট অর্জনে ক্লিন এনার্জির সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে যথাযথ মান বজায় না থাকলে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও নিরাপত্তা অর্জন অসম্ভব। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিএসটিআইর ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। তিনি বিএসটিআইর সোলার মডিউল ও ইনভার্টার টেস্টিং ল্যাবের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, মান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মনোয়ারা বেগম বলেন, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। শতভাগ মান নিশ্চিত করেই কেবল লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। চট্টগ্রামের আধুনিক ল্যাবরেটরি সমৃদ্ধ নতুন ভবনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ পরিবর্তনের মতো প্রতারণা বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মোমেন উস সাজ্জাদ জানান, ভোজ্যতেলের ভিটামিন-এ সহ নিত্যপণ্যের মান নিশ্চিতে অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ভোক্তাদের সুবিধার্থে চালু রয়েছে কিউআর কোড যাচাই ও ১৬১১৯ হেল্পলাইন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাইদুজ্জামান এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন বিএসটিআইর উপপরিচালক (রসায়ন) ইব্রাহীম খলিল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী পরিচালক (সিএম) শিমু বিশ্বাস ও ফারহানা জাহান পারুল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/বিটিএনএস/এসএমপি/ওইএম//