ডিজিটাল আধুনিকায়ন ও বিএফডিসির মাধ্যমে ই-টিকেটিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
ই-টিকেটিংয়ে টিকবে সিনেমা হল, মোবাইল কখনো হলের বিকল্প নয়
- মোবাইলের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হবে না; বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে ছবি দেখার অনুভূতি আলাদা
- রাজস্ব আয় বাড়াতে ও স্বচ্ছতা আনতে হলে সিনেমা হলগুলোতে দ্রুত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ
- হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ গ্রহণ
স্মার্টফোন কিংবা হোম থিয়েটারের আধুনিক যুগেও বড় পর্দার সিনেমা হলের ঐতিহ্য বিলুপ্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ১২ অক্টোবর, রবিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে সিনেমা খাতের ইকোসিস্টেম আধুনিকায়নে দ্রুত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আধিপত্য থাকলেও বড় পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। সিনেমা হলের আয় ও কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ই-টিকেটিং অত্যন্ত জরুরি। ই-টিকেটিং চালু হলে হল মালিকদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও কয়েক গুণ বাড়বে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। কারণ, সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সভায় চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, সিনেপ্লেক্সের মতো সিঙ্গেল স্ক্রিন হলের আধুনিকায়ন, মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ১ হাজার কোটি টাকার সরকারি ফান্ড ছাড়ের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
পাশাপাশি বিএফডিসির মাধ্যমে 'প্রতিভার সন্ধানে' কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন দক্ষ শিল্পী ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
//ডিবিটেক/এসপিপি/এসএমই/এমআইএস//





