দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকারের ওপর জোর

ওয়ালটনের উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ এমইএস

  • ওয়ালটনের উৎপাদন কারখানা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে এমইএসের প্রতিনিধিদল
  • দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সামরিক প্রকৌশল সেবার প্রধান
  • আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় ওয়ালটন

ওয়ালটনের উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ এমইএস
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫২  

দেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন, গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের প্রচেষ্টায় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির উৎপাদন কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে সামরিক প্রকৌশল সেবা (মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস—এমইএস)। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন অবকাঠামো, পণ্যের বৈচিত্র্য, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরিদর্শন করে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছে এমইএসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

সম্প্রতি গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সদর দপ্তর ও উৎপাদন স্থাপনা পরিদর্শন করে প্রতিনিধিদলটি। এর নেতৃত্ব দেন সামরিক প্রকৌশল সেবার ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হাসান উজ জামান। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন এমইএসের পরিচালক (ওয়ার্কস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওয়ালটনের প্রদর্শনী কেন্দ্র, বিভিন্ন উৎপাদন কারখানা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তারা লিফট, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, রেফ্রিজারেটর, সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, কেবল ও কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক, ইলেকট্রনিক ও উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রশংসা

পরিদর্শন শেষে মেজর জেনারেল হাসান উজ জামান বলেন, ওয়ালটনের বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাঁদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তিনি ওয়ালটনকে এসব সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে অগ্রগতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার যেভাবে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যকে গুরুত্ব দেয়, তাঁরাও একইভাবে স্থানীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেন। প্রয়োজনীয় পণ্য দেশে পাওয়া গেলে প্রথমেই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়ালটন তাঁদের বিবেচনায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম।

তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ওয়ালটনের অবদান প্রশংসার যোগ্য।

এমইএসের পরিচালক (ওয়ার্কস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ওয়ালটনের বিস্তৃত উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে এ ধরনের বৃহৎ উৎপাদন অবকাঠামো ও শিল্প সক্ষমতা গড়ে ওঠা গর্বের বিষয়। দেশে উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, ওয়ালটন এখন শুধু দেশের বাজারকে লক্ষ্য করে কাজ করছে না; আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পণ্য নকশা ও উৎপাদন করছে। পরিবেশগত স্থায়িত্বের ক্ষেত্রেও ওয়ালটনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে কাজ করছে।

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলাকে ওয়ালটন গুরুত্ব দেয়। এমইএসের প্রতিনিধিদলের এ পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ স্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আরও অবদান রাখাই ওয়ালটনের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের সর্বোচ্চ মান ও বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিজনেস কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আনজুম। তিনি এমইএসের প্রতিনিধিদলকে পরিদর্শনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ওয়ালটন ও এমইএসের বিদ্যমান সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর সহযোগিতায় রূপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, ওয়ালটন এসির প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা (সিবিও) মো. তানভীর রহমান, করপোরেট বিক্রয় বিভাগের প্রধান আহমেদ তানভীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রতীক কুমার মোদক, ওয়ালটন লিফটের প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান এবং প্রশাসন বিভাগের প্রধান তানভীর আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা।

//ডিবিটেক/এমএসএম/এসএমপি/এমআইএসটি//