সঙ্গে ১০% স্টক ডিভিডেন্ড

ওয়ালটনের ১৮০% নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

  • ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন
  • লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ওয়ালটন
  • সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ২৬ মেগাওয়াট; আগামী অর্থবছরে ৫০ মেগাওয়াটের লক্ষ্য

ওয়ালটনের ১৮০% নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩০  

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার মধ্যেই ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন শেয়ারহোল্ডাররা।

বিশ্ব ও দেশের অর্থনীতিতে চলমান নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে ওয়ালটনের ভবিষ্যৎমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করেন তাঁরা।

ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিপুলসংখ্যক প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডার ভার্চুয়ালি অংশ নেন। সভায় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম নুরুল আলম রেজভী, এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম ওভি, তাহমিনা আফরোজ, রাইসা সিগমা হিমা, সাবিহা জারিন অরোনা, নিশাত তাসনিম সুচি এবং শাদমান সাকিব ডিপ্রো উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক এম. সাদিকুল ইসলাম, পিএইচডি, এফসিএমএ; আখতার মতিন চৌধুরী, এফসিএ, এফসিএস; এবং জোহরা বিবি সভায় অংশ নেন। কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল আলম, এফসিএ, এসিএ (আইসিএইডব্লিউ); এএমডি ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান আবু নাফিস; কোম্পানির নিরীক্ষক, করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শেয়ারহোল্ডাররাও ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন। সভা সঞ্চালনা করেন ওয়ালটন হাই-টেকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, এফসিএস।

স্বাগত বক্তব্যে চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্সের ভিত্তিতে কোম্পানি ভালো আর্থিক ফলাফল অর্জন করতে পেরেছে। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষার ধারাবাহিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে আরও ভালো আর্থিক ফলাফল অর্জন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অধিক মূল্য সৃষ্টি করতে ওয়ালটন কাজ করে যাবে। ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভা সফল করতে অবদান রাখায় শেয়ারহোল্ডার, অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকের উন্নতি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছর বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তন ও নানা চ্যালেঞ্জের সময় ছিল। তা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশল, উদ্ভাবন এবং বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ওয়ালটনের ব্যবসায়িক স্থিতিস্থাপকতা ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদ্যমান সাফল্যকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন সুযোগ তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

দেশের আমদানিনির্ভরতা কমানো ও দেশীয় শিল্প সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরে মাহবুবুল আলম বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে নিজস্ব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আমদানি করা ব্যাটারির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে উচ্চমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রথম কোম্পানি হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ওয়ালটনের।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাটারি বৈদ্যুতিক যানবাহন, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি জ্বালানিচালিত জেনারেটরের বিকল্প হিসেবে আবাসিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ এবং শিল্প খাতের জ্বালানি সংরক্ষণেও এগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নত শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনের কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে এটি ভবিষ্যতে সবুজ জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এ অর্জনে বিনিয়োগকারীরাও গর্বিত অংশীদার হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে ওয়ালটনের অঙ্গীকার তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কোম্পানিটি তাদের উৎপাদন কারখানায় দেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ২৬ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে, যা কোম্পানির নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার কাজ চলছে। তাঁর মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এ অগ্রগতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের প্রতি ওয়ালটনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মাহবুবুল আলম বলেন, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ওয়ালটন আন্তর্জাতিক বাজারে এগিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিটি ইতোমধ্যে সিই, ইউএল, এনওএম, বিএইচএস এবং টিইউভিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ পেয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি বিশ্বের ৬৪টি দেশে রপ্তানি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরও বলেন, লিফট ও কেবলের মতো নতুন পণ্য যুক্ত হওয়ায় কোম্পানির রপ্তানি পণ্যের পরিসর বাড়ছে। সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটন পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এজিএমে শেয়ারহোল্ডাররা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন, ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। এ ছাড়া পরিচালকদের প্রতিবেদন, পরিচালকদের পুনর্নির্বাচন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্নিয়োগ, কোম্পানির বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক ও করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষকের পুনর্নিয়োগ এবং জোহরা বিবিকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগসহ সভায় উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় অনুমোদন করা হয়।

সভায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ওয়ালটন হাই-টেকের সংশ্লিষ্ট পক্ষ ‘ওয়ালটন প্লাজা’র সঙ্গে সম্পাদিত লেনদেনও শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন করেন।

//ডিবিটেক/ডব্লিউপিএমএসএম/এসএমপি/ এমভিএনও//