উৎপাদনশীলতা ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চিংড়ির ব্র্যান্ডিংয়ে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটির তাগিদ
- ভারতের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি জমি থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি ঘাটতি কমাতে মানোন্নয়নে জোর
- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত হয়েছে 'রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল'; আসছে জাতীয় নীতিমালা
- শেরাটন ঢাকায় আইএলও, এমবিএ ও টোটালফুডের যৌথ সংলাপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশগ্রহণ
বিশ্বের প্রিমিয়াম বাজারে বাংলাদেশি চিংড়ির অবস্থান সুসংহত করতে কাগুজে নথিনির্ভর পদ্ধতির বদলে উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত সমন্বিত ও স্বচ্ছ 'ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি' ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতের ওপর জোর দেন তিনি। ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে চিংড়ি খাতবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম (এমবিএ) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সদস্য প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিং (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর দেশের হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে উন্নীত হলেও এ খাতে প্রবৃদ্ধির বিশাল সুযোগ এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। প্রতিবেশী ভারতে যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে, সেখানে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের উপযোগী জমি প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি থাকা সত্ত্বেও রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে এই ঘাটতি দূর করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন শুধু পণ্যের গুণগত মান দেখেন না; পরিবেশগত স্থায়িত্ব, কারখানার কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে যাচাই করেন। দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ গঠন করেছে এবং এ সংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা ও ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি কৌশল প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রধান বাজার উল্লেখ করে তিনি জানান, বাণিজ্য সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) পথ সুগম করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেয়জা এবং সমাপনী বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন। সংলাপে বক্তারা অভিমত দেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রয়াস থাকলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়িকে একটি টেকসই ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
//ডিবিটেক/ডব্লিউপিএমএসএম/এসএমপি/ এমভিএনও//





