করপোরেট তথ্য সুরক্ষা ও ম্যালওয়্যার প্রতিরোধে নতুন সেবা
অননুমোদিত এআই শনাক্তে ‘সফোস এআই ডিফেন্স’ চালু
- প্রতিষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করবে সফোস
- ফিউশন প্রযুক্তিতে ডিভাইস, নেটওয়ার্ক ও ব্রাউজার স্তরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নজরদারি
- চলতি বছর এআই এজেন্ট ব্যবহার করে হামলাকারীর ৮০টি ম্যালওয়্যার তৈরির তথ্য প্রকাশ
করপোরেট নেটওয়ার্কে অনুমোদনহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার প্রতিরোধ এবং এআইভিত্তিক জটিল সাইবার আক্রমণ প্রতিহত করতে নতুন সমন্বিত নিরাপত্তা সমাধান ‘সফোস এআই ডিফেন্স’ উন্মোচন করেছে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস। সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উপলক্ষে ১৪ অক্টোবর, বুধবার বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এই অত্যাধুনিক এন্টারপ্রাইজ প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ আইটি কাঠামোর নজরদারির বাইরে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো এআই’ (Shadow AI) প্ল্যাটফর্মগুলো স্পর্শকাতর প্রাতিষ্ঠানিক ডেটার জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। নতুন ‘সফোস এআই ডিফেন্স’ পরিষেবাটি করপোরেট নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে এআই টুল ও এজেন্টদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। এর পাশাপাশি কর্মীরা অনুমোদন ছাড়া কোনো এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন কি না এবং সেই ব্যবহার প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান তথ্য নিরাপত্তা নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়ন করে এই সমাধান।
সফোসের নিজস্ব ‘ফিউশন’ আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের এন্ডপয়েন্ট ডিভাইস, নেটওয়ার্ক ট্রাফিক, সাইন-ইন আইডেন্টিটি এবং ব্রাউজার লেয়ারের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে একটি একক ড্যাশবোর্ডে একীভূত করে। ফলে আলাদা কোনো বাহ্যিক সিকিউরিটি টুল পরিচালনার জটিলতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্টের সংখ্যা ১৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। বর্তমান করপোরেট প্রেক্ষাপটে প্রায় ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে তাদের কর্মীরা অনুমতি ছাড়াই কর্মক্ষেত্রে এআই টুল ব্যবহার করছেন। গত এক বছরে ৮২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সিস্টেমে অনুমোদনহীন এআই এজেন্টের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে এবং প্রায় ৯০ শতাংশ আইটি লিডার এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে ডেটা ফাঁসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সাইবার অপরাধীরাও হামলায় ক্রমাগত উন্নত এআই মডেল ব্যবহার করছে। সফোসের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ‘সফোস এক্স-অপস’ চলতি বছর এমন একজন সাইবার হামলাকারীকে শনাক্ত করেছে, যে একটি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে এআই এজেন্ট কাজে লাগিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রায় ৮০টি ম্যালওয়্যার মডিউল তৈরি ও পরীক্ষা চালিয়েছিল। এছাড়া ডার্কওয়েব ফোরামে উন্নত এআই প্ল্যাটফর্মের এপিআই কী কেনাবেচা, সিকিউরিটি ফিল্টার বাইপাসের কৌশল বিনিময় এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের তৎপরতা বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যবহারকারীর দেওয়া টেক্সট প্রম্পট, ফাইল আপলোড এবং আউটপুট ডেটা রিয়েল-টাইমে স্ক্যান করে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করবে সফোস এআই ডিফেন্স বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/এসজিএপিএন/এসএমপি/ওইএম//





