৮৭ হাজার ডলারের নিচে আটকে আছে বিটকয়েন
বড় বড় বিনিয়োগকারী বা 'হুইল'রা ক্রমান্বয়ে বিটকয়েন জমা করা সত্ত্বেও ৮৭ হাজার ডলারের প্রতিরোধ সীমা বা রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করতে পারছে না বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই ক্রিপ্টোকারেন্সি।
সাম্প্রতিক লেনদেনে বিটকয়েনের দাম কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪ হাজার ২০০ ডলারে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে। একই সময়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথেরিয়ামের দাম অবস্থান করছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে বিটকয়েনের দাম অন্তত তিনবার ৮৭ হাজার ডলারে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও বিক্রির চাপে তা ভেস্তে যায়।
লেনদেন কেন্দ্র থেকে বিটকয়েন সরানোর প্রবণতা
মূল্যপতনের এই দরকষাকষির মধ্যেও বাজার বিশ্লেষণকারী বিভিন্ন অন-চেইন উপাত্ত বলছে, বড় বাজার অংশীদাররা বিটকয়েন সংগ্রহের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। চলতি অক্টোবরের প্রথম থেকে বড় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ১৪ হাজার ৩৩৫টি বিটকয়েন ক্রয় করেছেন।
তা ছাড়া গত দুই সপ্তাহে সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো লেনদেন প্রতিষ্ঠান বিনান্স থেকে প্রায় ৪০ হাজার বিটকয়েন তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেখানে সংরক্ষিত বিটকয়েনের মোট সংখ্যা কমে ৬ লাখ ৬৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত লেনদেন কেন্দ্র থেকে সম্পদ সরিয়ে ব্যক্তিগত নিরাপদ ডিজিটাল ওয়ালেটে নেওয়াকে বাজারে সরবরাহের সংকট ও দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফেডারেল রিজার্ভের নীতি ও ইটিএফের প্রভাব
বিটকয়েনের মূল্য চাঙ্গা না হওয়ার পেছনে আমেরিকার মূলধন বাজার ও সুদের হারের বড় ভূমিকা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পট বিটকয়েন ইটিএফ থেকে মূলধন প্রত্যাহারের পরিমাণ বেড়েছে, যা সম্প্রতি একদিনেই প্রায় ৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের লভ্যাংশ বা ইল্ড ৫ দশমিক ৩ শতাংশের ওপরে অবস্থান করায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বড় বিনিয়োগ কিছুটা থমকে গেছে।
তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক চলতি মাসে নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আগের ৫১ শতাংশ থেকে একধাক্কায় কমে ২০ শতাংশে নেমে আসা ক্রিপ্টো বাজারের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সতর্কতা
সম্প্রতি বাজারে অতিরিক্ত লেভারেজ বা ঋণ নিয়ে করা লেনদেনের কারণে বড় ধরনের পতন দেখা দেয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্রিপ্টো বাজারে প্রায় ১০২ কোটি ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগ বিলুপ্ত বা লিকুইডেশন হয়, যার সিংহভাগই ছিল দর বৃদ্ধির আশায় রাখা দীর্ঘমেয়াদি বাজি। সব মিলিয়ে বর্তমানে বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সির মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত বিটকয়েনের জন্য ৮৪ হাজার থেকে ৮৫ হাজার ডলারের ঘরটি শক্তিশালী সমর্থন বা সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। বাজার পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে হলে বিটকয়েনকে অবশ্যই ৮৭ হাজার ডলারের ওপরে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে।
সামগ্রিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় এই মুহূর্তে এককালীন বড় ঝুঁকি না নিয়ে সতর্কভাবে ধাপে ধাপে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: গ্যাজেটস৩৬০





