উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় রূপান্তরের ঘোষণা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর চিকিৎসাসেবা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক সার্জারি ও জিনোমিক্সের যুগে উদ্ভাবনী চিকিৎসাসেবা চালুর তাগিদ
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ১৫০-এ উন্নীত এবং স্বাস্থ্য বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশের লক্ষ্য
  • এনএপিডিতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৮০ জন কর্মকর্তার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর চিকিৎসাসেবা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৩  

স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জিনোমিক্স ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে উদ্ভাবনী চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। ১২ অক্টোবর, সোমবার রাজধানীর নীলক্ষেতে জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমি (এনএপিডি) মিলনায়তনে আয়োজিত বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ১৩৮তম ও ১৩৯তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এনএপিডিতে আয়োজিত এ দুটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট ৮০ জন বিসিএস স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, রোগ নির্ণয়, নির্ভুল প্রেসক্রিপশন প্রণয়ন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশ্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এর পাশাপাশি জিনোমিক্স, রোবোটিক সার্জারি, আধুনিক মেডিকেল ডিভাইস ও বায়োটেকনোলজির অগ্রগতি চিকিৎসা খাতকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। চিকিৎসকদের কেবল বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা বা অনুসারী না হয়ে নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় উদ্ভাবন সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি। সরকারি চিকিৎসকদের কর্মজীবনে একটি নতুন ডিজিটাল সমাধান বা চিকিৎসাপদ্ধতির সফল প্রয়োগ তৃণমূলের কোটি মানুষের জীবনমান বদলে দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি তরুণ চিকিৎসকদের ডেটানির্ভর গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং কাজের সফলতা ও ব্যর্থতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তিকে মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে হবে, যাতে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দেশের কোনো নাগরিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও নীতিগত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩০ শয্যার হাসপাতাল চালুর মাধ্যমে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে না হয়।

জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমির মহাপরিচালক মো. খায়রুল কবির মেননের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সায়মা আফরোজ। অনুষ্ঠানে একাডেমির অনুষদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/এএমপি/এসএমই/বিপও//