বিশ্ব ডাক দিবসের স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণে মন্ত্রী
ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক করার কাজ চলছে
- পার্সেল সেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডাক বিভাগকে লাভজনক করার ঘোষণা
- এমএফএস প্রতিষ্ঠান 'নগদ' বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্টকরণ
- বিশ্ব ডাক দিবস ও ডাকসেবা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে ২৯ জনকে সম্মাননা প্রদান
ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ডাকসেবার ডিজিটাইজেশন ও অবকাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি প্রযুক্তিভিত্তিক ডাকসেবার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ডাকসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমাগত বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ডাক বিভাগে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে জানিয়ে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, অর্জিত আয় ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ‘নগদ’ প্রসঙ্গে চলমান গুজব নিরসন করে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও বিশ্বমানের, আধুনিক ও লাভজনক করার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞরা দিনরাত কাজ করছেন। সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও টেকনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চমানের কারিগরি কৌশল ও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার নিরাপত্তামূলক পরীক্ষার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কাজের যোগ্য স্বীকৃতি কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে। তাই মেধা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের এই প্রক্রিয়া তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ডাক বিভাগের বিদ্যমান বিশাল অবকাঠামো ও দেশব্যাপী বিস্তৃত পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক সেবার সংস্কার ও রূপান্তরের পাশাপাশি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রামীণ পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সচিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাকসেবার প্রচার বাড়ানো এবং নতুন প্রতিভাকে যুক্ত করার তাগিদ দেন।
এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ছিল “One Postal Network, Infinite Possibilities”—যার বাংলা অনুবাদ “সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা”। গত ৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে। বিশেষ দিনটি উপলক্ষ্যে আজকের অনুষ্ঠানে এই প্রতিপাদ্যের ওপর একটি অফিসিয়াল স্মারক ডাকটিকিট আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়।
ডাকসেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সারা দেশে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক (ডাকটিকিট) প্রদর্শনী, অনলাইন রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভাসহ নানা উদ্ভাবনী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ মোট ২৬টি ঐতিহ্যবাহী স্থানে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও ডাকসেবা মেলার আয়োজন করা হয়। এসব উৎসবে তরুণ প্রজন্ম সরাসরি হাতে লিখে প্রায় ৪ হাজার ৬৪৩টি চিঠি ইস্যু করে, যা ডিজিটাল যুগে হাতে চিঠি লেখার সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৫ জন শিক্ষার্থী, ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৩ জন শিক্ষার্থী, পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য ৪ জন কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ৬ জন কর্মচারী, প্রশাসনিক ডাকসেবায় অবদানের জন্য ৫ জন কর্মকর্তা এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও নগদ সেবা ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য ৬ জন প্রতিনিধি সহ সর্বমোট ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা ও স্মারক প্রদান করা হয়।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে ডাক অধিদপ্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/জেডিইউআইপি/এসভিপি/এমআইএসটি//





