এক দফা দাবিতে অনড় থেকে হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

রাজনৈতিক অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ চুয়েট শিক্ষার্থীদের

  • র্গাপূজার ছুটির আগে আবাসিক হল ছাড়ছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা 

  • ন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে

  • সমস্যার সমাধান না হলে ২৫ অক্টোবর থেকে পুনরায় শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা


রাজনৈতিক অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ চুয়েট শিক্ষার্থীদের
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫০  
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩৮  

দুর্গাপূজার ছুটির আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) ছিল চুয়েটের শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে আবাসিক হলগুলো ছেড়ে বাড়িতে ফিরছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা, ফলে ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী কর্মদিবস ও ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্ভূত সংকটের সমাধান না হলে পুনরায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। পূজার ছুটির এই সময়ে আপাতত বড় কোনো কঠোর আন্দোলন বা কর্মসূচি না থাকলেও এক দফা দাবিতে অনড় রয়েছে তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুয়েটে চলমান স্বতন্ত্র আন্দোলনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও বার্তা ও জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ভিডিও বার্তায় ও বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন, সরকারই ইতিপূর্বে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারকে নিয়োগ দিয়েছিল এবং তাদের এক দফা দাবি অনুযায়ী বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেই তাঁকে পুনরায় বহাল করার যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। এর পেছনে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীগত বা দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন। 

 

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে সরকারসমর্থক ও সরকারবিরোধী—উভয় পক্ষের কিছু মহল নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধামতো তাদের আন্দোলনের ভাষ্য বদলে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নামে বা ছাত্রলীগের পরিচয়ে পরিচালিত কিছু ফেসবুক পেজ থেকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমর্থনমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলেও শিক্ষার্থীরা তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এ ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন বা প্রতিনিধিত্বের কোনো অনুমোদন তারা কখনো দেননি বলে স্পষ্ট করেছেন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চুয়েটের এই ন্যায়সংগত শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা প্রচারমঞ্চ নয়।

পরিশেষে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষার্থীরা বলেন যে, উদ্ভূত প্রশাসনিক সমস্যার মূল সমাধান সরকারের হাতেই রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক বক্তব্য আমলে নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন সংশোধন ও সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নেতৃত্বে থাকা ৫ সমন্বয়কের মধ্যে ভিডিও বার্তাটি পাঠ করেন চুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাতাব হক এবং মাহিদুর রহমান ওসমানী।  

দুর্গাপূজার ছুটির আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) ছিল চুয়েটের শেষ কর্মদিবস। এদিন শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ায় ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে পড়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহালের এক দফা দাবি আদায় না হলে ২৫ অক্টোবর থেকে কঠোর শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ছুটির এই সময়ে আপাতত কোনো আন্দোলন কর্মসূচি না থাকলেও দাবি আদায়ে তারা অনড় রয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় মাহাতাব হক সাফ জানিয়ে দেন, “আমাদের আন্দোলনের সূচনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে কোনো অস্পষ্টতা নেই। উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করাই আমাদের একমাত্র দাবি। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বয়ানের কাঁচামাল নয়। আমাদের কণ্ঠস্বর বিকৃত করে অন্যের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অধিকার কারও নেই।”

আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ‘চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে আমাদের আন্দোলনকে ঘিরে যে সমর্থনমূলক বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই। আমরা এই রাজনৈতিক সমর্থনের অনুমোদন দিইনি এবং আমাদের আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার কাউকে দিইনি।” জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও প্রাণহানীর গভীর বেদনার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, সেই অভিজ্ঞতা অস্বীকার করে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা প্ল্যাটফর্ম তাঁদের আন্দোলনের নৈতিক সমর্থক সেজে উঠতে পারে না এবং তাঁরা ওই সময়ের সহিংসতার নিরপেক্ষ বিচার ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন।

শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারই যেহেতু সায়েম স্যারকে ইতিপূর্বে নিয়োগ দিয়েছিল, তাই এক দফা দাবি অনুযায়ী সরকারের মাধ্যমেই এই সংকটের যৌক্তিক সমাধান সম্ভব। ছুটির পর পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাঁরা পুনরায় আন্দোলন ও শাটডাউনে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। 

//ডিবিটেক/সিজিএইচ/সিআরএইচ//এমভিএনও/এমআইএসটি//