সিআইডির হাতে সহ-মহাব্যবস্থাপক পার্থ সারথী গ্রেপ্তার

সফটওয়্যার জালিয়াতিতে সানজি গ্রুপের সাড়ে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ

  • সফটওয়্যারে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও চেক জালিয়াতি করে ১৬.৬২ কোটি টাকা আত্মসাৎ
  • সানজি গ্রুপের এজিএম পার্থ সারথী হালদারকে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার
  • গ্রাহকদের সংগৃহীত নগদ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর

সফটওয়্যার জালিয়াতিতে সানজি গ্রুপের সাড়ে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫২  

প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যারে ভুয়া তথ্য প্রদান এবং মালিকের স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত একটার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার  এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এই তথ্য নিশ্চিত করে। ডিজিটাল সফটওয়্যার সিস্টেমের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে অভ্যন্তরীণ কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এজিএম পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাকে আটক করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, আসামিরা প্রযুক্তিগত কৌশল ও সফটওয়্যারের ডাটা ম্যানিপুলেশন ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়েও এজিএম পার্থ সারথী সফটওয়্যারে টাকা জমা হয়েছে বলে দেখাতেন। আবার কখনো মালিকের সই করা ফাঁকা চেকে প্রাপকের নাম বদলে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ সরিয়ে নিতেন। সিআইডি জানিয়েছে, এই বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতি ও আত্মসাতের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার বিস্তৃত তদন্ত কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

উক্ত অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গত ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল সানজি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মচারী পদে থেকে পার্থ সারথী হালদারসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এসব অর্থ আত্মসাৎ করেন। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এই মামলার প্রধান সহযোগী সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) ও সৈয়দ আরব আলী (৫২) নামের দুজনকে গ্রেফতর করেছিল সিআইডির আভিযানিক দল।

সিআইডির ফোরেনসিক ও আর্থিক তদন্তের তথ্যমতে, পার্থ সারথী হালদার গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি নিজের ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি পৃথক হিসাব ব্যবহারসহ ব্যাংক ব্যবস্থার নানা কারসাজিতে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে সানজি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘পানামা সিএনজি কনভার্সন’ থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছে সিআইডি।

তদন্তকারী সংস্থাটি জানায়, কেবল ফাঁকা চেক জালিয়াতি ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে প্রসেসিং ম্যানিপুলেশন করেই এককভাবে পার্থ সারথী হালদার বিভিন্ন সময়ে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাৎ করেন। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নগদ অর্থ এবং স্বাক্ষর করা চেকের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ চক্রটি মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সফটওয়্যার ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ সংঘটনের কথা স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি। 

//ডিবিটেক/এসএফইপিআর/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//