চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করছে আধুনিক গাড়ি ও অ্যাপস

চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করছে আধুনিক গাড়ি ও অ্যাপস
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩  

আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি ও মোবাইল অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং গোপনীয় ডেটা বিজ্ঞাপন ও বিশ্লেষণকারী তৃতীয় পক্ষের কাছে পাচার করছে। নরথইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং কনজুমার রিপোর্টসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। 

গবেষণায় একুশটি নতুন মডেলের গাড়ি এবং ত্রিশটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, বেশিরভাগ গাড়িই ওয়াই-ফাই ও মুঠোফোন অ্যাপের মাধ্যমে মালিকের ব্যক্তিগত শনাক্তকারী নম্বর (ভিআইএন), ইমেইল ঠিকানা এবং সুনির্দিষ্ট অবস্থানের মতো সংবেদনশীল তথ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিচ্ছে।

কোন কোন প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ তথ্য পাচার করছে
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষিত একুশটি গাড়ির মধ্যে উনিশটি গাড়িই ওয়াই-ফাই সংযোগের মাধ্যমে কোনো না কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে তথ্য পাঠিয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল মোটরস বা জিএম-এর বিভিন্ন জনপ্রিয় অ্যাপ- যেমন মাইক্যাডিল্যাক, মাইশেভ্রোলেট, মাইবিউইক এবং মাইজিএমসি সরাসরি গাড়ি শনাক্তকরণ নম্বর মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবির মতো দশটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়েছে। 

একইভাবে হোন্ডালিংক অ্যাপ ব্যবহারকারীর অবস্থান এবং গাড়ির তথ্য অ্যানালিটিক্স ফার্ম অ্যামপ্লিটিউডের কাছে হস্তান্তর করেছে। 

এছাড়া নিসান এবং লিংকনের অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধেও অনুরূপ গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। 

গবেষকরা বলছেন, মুঠোফোনের বিজ্ঞাপন আইডি সহজে পরিবর্তন করা গেলেও গাড়ির ভিআইএন পরিবর্তন করা যায় না, ফলে বিজ্ঞাপনদাতারা সহজেই ব্যবহারকারীর অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রমের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে।

অটোমোবাইল কোম্পানির যুক্তি ও নিরাপত্তা সংকট
তথ্য পাচারের এই অভিযোগের বিষয়ে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করেছে যে, তাদের এই তথ্য আদান-প্রদান ভেন্ডর চুক্তি ও গোপনীয়তা নীতিমালার আলোকেই পরিচালিত হয়। 

তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব অ্যাপের গোপনীয়তা নীতি অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং সাধারণ গ্রাহকরা তা পড়ে বোঝার সুযোগ পান না। অনেক ক্ষেত্রে চালকরা ডেটা শেয়ারিংয়ের চুক্তি বাতিল করতে গেলে গাড়ির নেভিগেশন বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার আপডেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

একমাত্র হোন্ডা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়নি। 

এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।    সূত্র: এনগ্যাজেট