ফ্রান্সে ৭০০ স্টোরের খাবার নষ্ট; সাপ্লাই চেইনে চরম ঝুঁকি

ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের কুলিং সিস্টেমে সাইবার হামলা

  • ইন্টারনেট সংযুক্ত রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা হ্যাক করে রাতারাতি বন্ধ করা হয় শত শত হিমাগার
  • ডিফ্রস্ট সাইকেল সক্রিয় করে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে উন্নীত; স্পেন ও জার্মানিতেও আতঙ্ক
  • খাদ্য নিরাপত্তায় বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোলান্ড লেসকিউর

ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের কুলিং সিস্টেমে সাইবার হামলা
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৩  

ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপের খাদ্য সরবরাহ চেইনে নজিরবিহীন এক সাইবার হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকাররা। ফ্রান্সে ইন্টারনেট সংযুক্ত বাণিজ্যিক রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা হ্যাক করে রাতারাতি তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় দেশটির প্রায় ৭০০টি সুপারমার্কেটে টন কে টন পচনশীল খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। প্রযুক্তিগত কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই পরিচালিত এই ডিজিটাল নাশকতা ইউরোপজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সিএনএন, রায়টার্স সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ফ্রান্সের খ্যাতনামা রিটেইল চেইন কারফুর, মনোপোপ্রিক্স এবং লে মুসকেতিয়ারস (ইন্টারমার্শে)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর স্টোর এই সাইবার নাশকতার শিকার হয়েছে। হ্যাকাররা দূরনিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অরক্ষিত পোর্ট ব্যবহার করে ড্যানফস ও কোপল্যান্ডের মতো বৈশ্বিক প্রস্তুতকারকদের ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা লিগ্যাসি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নেয়। এরপর গভীর রাতে ফ্রিজারগুলোতে ‘ডিফ্রস্ট সাইকেল’ সক্রিয় করে দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে ফ্রিজ গলে মেঝেতে পানি জমে কোটি কোটি টাকার তাজা মাংস, মাছ ও দুগ্ধজাত পণ্য ধ্বংস হয়ে যায় এবং কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ফ্রান্স ছাড়াও এই সমন্বিত সাইবার হামলার প্রভাব স্পেন, জার্মানি, বেলজিয়াম এবং পোল্যান্ডের কিছু বাণিজ্যিক স্টোরেও ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোলান্ড লেসকিউর এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে খাদ্য সরবরাহ চেইনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করে জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।

এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী বা হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং কোনো ধরনের আর্থিক মুক্তিপণ বা র‍্যানসমওয়্যার বার্তাও পাঠানো হয়নি। কোনো অর্থ দাবি না করায় সাইবার বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, নিছক অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন, নাগরিক জীবনে আতঙ্ক তৈরি এবং জাতীয় সরবরাহ চেইনকে অস্থিতিশীল করতেই কোনো রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট বা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী এই ধ্বংসাত্মক সাইবার হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস ও ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিত তদন্ত শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/সিএনএন/এসএমপি/এসভিপি/এমআইএসটি//

//