অনলাইনে নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যকারীদের তথ্য প্রকাশ

‘নো মোর সাইলেন্স’ গ্রুপের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সচেতনতা ও বিতর্ক

  • কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে ডিজিটাল স্ক্রিনশট
  • মডারেটরদের ফোনে হুমকি ও ভুয়া প্রোফাইল শনাক্তে ভুলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
  • কুমিল্লায় কিশোরী মৃত্যুর ঘটনায় আপত্তিকর মন্তব্য ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় নতুন ক্যাম্পেইন

‘নো মোর সাইলেন্স’ গ্রুপের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সচেতনতা ও বিতর্ক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৯  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের লক্ষ্য করে অশালীন, আক্রমণাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পরিচয় ও প্রোফাইল সর্বসমক্ষে প্রকাশ করছে ‘নো মোর সাইলেন্স’ নামের একটি নাগরিক ফেসবুক গ্রুপ। কুমিল্লায় এক কিশোরীর মৃত্যুর পর প্রকাশিত সংবাদের নিচে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে গ্রুপটি সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

গত বছরের ২ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মটির সদস্যসংখ্যা বর্তমানে ৩০ হাজার অতিক্রম করেছে। গ্রুপটির দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদ ও ভিডিওর কমেন্টবক্সে নারীদের অবমাননা করে মন্তব্য করা শতাধিক ব্যক্তির ছবি, পেশাগত পরিচয় ও ফেসবুক প্রোফাইল লিংক জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী থেকে শুরু করে প্রবাসী নাগরিকরাও রয়েছেন। কেবল সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশই নয়, কয়েকটি গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদেশি দূতাবাসেও প্রমাণ হিসেবে মন্তব্যের ডিজিটাল স্ক্রিনশট পাঠানো হয়েছে; যার প্রেক্ষিতে কিছু প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে বলেও গ্রুপ সূত্রে জানানো হয়।

গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আবির আহম্মেদ পিয়াস জানান, সাম্প্রতিক একটি দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে দায়ী করে চরম বিকৃত মানসিকতার মন্তব্য করা হচ্ছিল। অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া কিংবা ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিকতা প্রকাশ্যে আনতে এবং অনলাইনে সামাজিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই কার্যক্রম পরিচালনার কারণে প্ল্যাটফর্মটির মডারেটররা ফোনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার এই প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য ও ভুল পরিচয়ের ঝুঁকি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি ও আইন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি এক ব্যক্তি কমেন্টে নিজেকে নির্দিষ্ট একটি ফ্যাশন হাউজের বিক্রয়কর্মী হিসেবে উল্লেখ করলেও, গ্রুপে পোস্ট দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি জানায় ওই ব্যক্তি তাদের কর্মী নন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লোন বা ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্য কারো নামে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। ফলে শতভাগ ডিজিটাল ফরেনসিক বা তথ্য যাচাই ছাড়া কারও ব্যক্তিগত পরিচয় উন্মুক্ত করলে নিরপরাধ ব্যক্তিরা সামাজিক ও পেশাগত হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে। 

//ডিবিটেক/এফবিপিএস/এসএমপি/ওইএম//