শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি ও এআইয়ে দক্ষ হতে হবে

  • শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষকদেরও এআই জানতে হবে
  • ৬১৩ নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা আট দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন
  • অকৃতকার্যদের যৌক্তিক প্রস্তুতির সময় দিয়ে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী

শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি ও এআইয়ে দক্ষ হতে হবে
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০  

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদান করতে শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষের পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা কিংবা প্রশ্ন করতে সাহস না পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এমন পরিবেশ তৈরি করা শিক্ষকদেরই দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও শিক্ষকদের উন্নয়নে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সব শিক্ষককে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৬১৩ জন কর্মকর্তা আট দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. সরদার মো. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হক।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে। কারণ, প্রশ্নপত্রের দুটি সেট তৈরি থাকে—একটি ব্যবহার করা হয়, অন্যটি অব্যবহৃত থাকে। তবে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা এই ফেলের লিগ্যাসি বছরের পর বছর বহন করতে চাই না।” সুযোগ পাওয়ার পরও যারা অকৃতকার্য হবে, তাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষায় স্থানান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

এরপর শিক্ষামন্ত্রী ‘১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমি, বাংলাদেশ-এর কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারের নতুন করে ১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমির শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন.
//ডিবিটেক/এসএফইপিআর/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//