ভর্তুকি ও ভেটেরিনারিয়ান বাড়ানোর দাবি

উদ্বৃত্ত ডিম রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

  • দেশে বছরে উৎপাদিত হয় ২৫.৯ বিলিয়ন ডিম, চাহিদা ১৮.৫৫ বিলিয়ন
  • প্রতি ডিম উৎপাদনে ব্যয় ১০–১১ টাকা, বলছেন বাকৃবি বিশেষজ্ঞ
  • পোল্ট্রি খাতে ভর্তুকি ও প্রতি উপজেলায় ৫–৬ ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের দাবি

উদ্বৃত্ত ডিম রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৬  

বাংলাদেশে বছরে ডিমের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন, যেখানে বার্ষিক চাহিদা ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় বেশি ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে দেশে। এই উদ্বৃত্ত ডিম রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা থাকলেও উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং প্রাণিস্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে পোল্ট্রি খাতে সরকারি ভর্তুকি ও উপজেলা পর্যায়ে ভেটেরিনারিয়ানের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

১০ অক্টোবর, শনিবার বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদ আয়োজিত এক সেমিনারে এ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়। ‘প্রোটিন দ্যাট পাওয়ারস অ্যান্ড প্রোটেক্টস’ শীর্ষক সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সভাপতি ও বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, দেশে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত ডিম রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিম উৎপাদনের ব্যয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “ডিম উৎপাদনে ফিডের উচ্চমূল্য, ভ্যাকসিনের খরচ ও খামার ব্যবস্থাপনার ব্যয় বড় প্রতিবন্ধকতা। এসব খরচ মিলিয়ে বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ১০ থেকে ১১ টাকা ব্যয় হয়। এ পরিস্থিতিতে খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভোক্তাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম পৌঁছে দিতে কৃষি খাতের মতো পোল্ট্রি খাতেও সরকারি ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন।”

প্রতি উপজেলায় ৫–৬ জন ভেটেরিনারিয়ানের দাবি

প্রাণিস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক বাহানুর রহমান বলেন, “বর্তমানে প্রতি উপজেলায় একজন ভেটেরিনারিয়ান রয়েছেন। কিন্তু, একজনের পক্ষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন। প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রতি উপজেলায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন ভেটেরিনারিয়ানের পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।”

সেমিনারে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক এবং ডিম দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সার্জারি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিম দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও সেলেনিয়াম। মস্তিষ্ক ও পেশির বিকাশ, দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিনামূল্যে সাড়ে তিন হাজার ডিম বিতরণ

বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্বর, প্রশাসনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসের সাতটি স্কুলের শিক্ষার্থী, পথচারী, যানবাহনচালক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে সাড়ে তিন হাজার ডিম বিতরণ করা হয়।

//ডিবিটেক/আনবিএন/এসএমপি/এমএনও//