যৌথ ডিগ্রি ও গবেষণার সুযোগ

জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় বাউবি-এনআইবির সমঝোতা

  • বাউবি ও এনআইবি জীবপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি চালুর উদ্যোগ নেবে
  • জিনোমিকস, জৈবতথ্যবিজ্ঞান ও আণবিক জীববিজ্ঞানে যৌথ গবেষণা হবে
  • কৃষি, ওষুধশিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে

জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় বাউবি-এনআইবির সমঝোতা
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৮  

জীবপ্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা, ব্যবহারিক গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জীবপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (এনআইবি)। এ চুক্তির আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ডিপ্লোমা, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, গবেষণা সহযোগিতা এবং আধুনিক গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ করবে। এর মাধ্যমে কৃষি, ওষুধশিল্প, মৎস্য খাত ও জাতীয় অর্থনীতিতে জীবপ্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এ সমঝোতাকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় জীবপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক মানের একটি জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এর আধুনিক গবেষণাগার ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে কৃষি অনুষদের এমএস ও পিএইচডি গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনার অনন্য সুযোগ দেবে।

সচিব জোর দিয়ে বলেন, বিজ্ঞানকে শুধু তাত্ত্বিক অধ্যয়ন বা গবেষণা সাময়িকীতে প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং নতুন ওষুধ, জৈবসার এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসল উদ্ভাবনের পাশাপাশি মৎস্য খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন আনতে জীবপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

এনআইবির বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাঠদানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের গবেষণার ওপর প্রধান গুরুত্ব বজায় রাখতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের মূল গবেষণা কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাউবির তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা গেলে এনআইবি দক্ষ মানবসম্পদ পাবে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

যৌথ ডিগ্রি চালু এবং সনদে উভয় প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহারের বিধান প্রসঙ্গে সচিব বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য যৌথ দায়িত্ব তৈরি করে। তাই মানসম্পন্ন কাজ এবং সুস্পষ্ট ফলাফলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটিকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিসর বাড়াতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাউবি এই যৌথ উদ্যোগের অংশ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কাজে মন্ত্রণালয় সহায়তা দেবে।

তিনি আরও জানান, সরকার বর্তমানে একটি জাতীয় উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করছে। সেখানে বাউবি ও এনআইবি যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আশাবাদ ব্যক্ত করে সচিব বলেন, এনআইবির আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার ও গবেষণাসক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান জীবপ্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়া তৈরি করতে পারবে। এসব উদ্যোগ দেশের কৃষি, ওষুধশিল্প এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, এই সমঝোতার আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে জীবপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা, এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করবে।

সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যৌথ পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি, জিনোমিকস, জৈবতথ্যবিজ্ঞান ও আণবিক জীববিজ্ঞানে যৌথ গবেষণা, গবেষণাগার ও যন্ত্রপাতির যৌথ ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি মেধাস্বত্ব অধিকার সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় জীবপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সগীর আহমেদ এনআইবির পক্ষে এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি. এম. আহমেদ হোসেন বাউবির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী ও ড. সৈয়দা নওশিন পারভীনি, বাউবির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ মণ্ডল এবং দুই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/এমএএম/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//