বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা ও শিক্ষার্থীদের বিবৃতি
চুয়েটে অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- সায়েম স্যারকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে তিন সপ্তাহ ধরে আন্দোলন অব্যাহত
- বিতর্কিত ভূমিকা ও বহিরাগত প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের অসম্মান ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার তীব্র প্রতিবাদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও টানা আন্দোলনের মুখে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে (রানা) ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্য সায়েম স্যারকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলমান সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই আলটিমেটাম প্রদান করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপাচার্য হিসেবে সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলন কেবল একজন ব্যক্তিকে একটি পদে পুনর্বহালের দাবি নয়; বরং এটি চুয়েটের স্বার্থ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মর্যাদা এবং ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সম্মান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান রানার কিছু কর্মকাণ্ড আন্দোলনরতদের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে। সর্বাত্মক আন্দোলন চলাকালে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা স্বচ্ছতা বজায় না রেখে বিতর্কিত শরীফ স্যার এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন, যা তাঁর নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও শ্রদ্ধা আশা করা হলেও তাঁর একতরফা পদক্ষেপ সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান রানার বিরুদ্ধে অতীতেও ক্যাম্পাসে সম্মানিত শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং গায়ে হাত তোলার গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণাদি রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করে তারা।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক হলেও তাঁর প্রত্যক্ষ মদদে ক্যাম্পাসের হৃৎপিণ্ড-ভিসি ভবনে চিহ্নিত ও বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি, গভীর ক্ষোভ এবং আস্থার সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে চুয়েট ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়, শিক্ষাঙ্গনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সম্মিলিত আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়।
//ডিবিটেক/এমআরএইচ/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//





