ছয় বিভাগের সমন্বয়ে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

বিএমইউতে বিশেষায়িত লিভার ক্যানসার ক্লিনিকের যাত্রা শুরু

  • বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ৬টি বিভাগের সমন্বয়ে চালু হলো লিভার ক্যানসার ক্লিনিক
  • উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী ক্লিনিকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন
  • লোকোরিজিওনাল থেরাপি, এসবিআরটি ও ট্রান্সপ্লান্টেশন নিয়ে লিভার ক্যানসার সচেতনতা মাস ২০২৬-এর সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিএমইউতে বিশেষায়িত লিভার ক্যানসার ক্লিনিকের যাত্রা শুরু
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৭  

লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক, প্রযুক্তিভিত্তিক ও সমন্বিত উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে বিশেষায়িত ‘লিভার ক্যানসার ক্লিনিক’। ছয়টিরও বেশি চিকিৎসা বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত এ ক্লিনিকে রোগ নির্ণয়, ডিজিটাল ইমেজিং ও মলিসিকুলার অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে রোগের পর্যায় নির্ধারণ, চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন ও চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্লিনিকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে এবং বিএমইউ হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এই বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে ‘লিভার ক্যানসার সচেতনতা মাস ২০২৬’ উপলক্ষে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞ হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নূরুদ্দীন আহমদ। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস. কে. এম. নাজমুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, “লিভার ক্যানসার বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের বায়োমার্কার ও প্রোটোকল অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়োপযোগী আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল বহুগুণ উন্নত করা সম্ভব।” তিনি চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

উপাচার্য আরও বলেন, “বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাশিক্ষা, আধুনিক উচ্চতর গবেষণা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে গত আগস্ট ২০২৬ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত এই লিভার ক্যানসার ক্লিনিকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা একটি প্রশংসনীয় ও মাইলফলক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে রোগীদের সুসংগঠিত বহুমাত্রিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে ক্যানসার চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানোন্নয়ন ও তথ্যভিত্তিক বায়োমেডিকেল গবেষণার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।”

বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে লিভার ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের অধ্যাপক ডা. বিশ্বজিৎ ভৌমিক এবং এনাম মেডিকেল কলেজের হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুজ্জামান নূর। বৈজ্ঞানিক আলোচনায় লিভার ক্যানসারের চিকিৎসায় লোকোরিজিওনাল থেরাপির বিশেষ ভূমিকা, আধুনিক স্টেরিওট্যাকটিক বডি রেডিওথেরাপি (এসবিআরটি/SBRT), সুনির্দিষ্ট সার্জিক্যাল রিসেকশন এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের অত্যাধুনিক প্রয়োগ নিয়ে বিষদ বিশ্লেষণ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি রোগীর টিস্যু অবস্থা ও ক্যানসার স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচনের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের এক বিশেষ সেশনে 'লিভার ক্যানসার রেজিস্ট্রি'-র বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, লিভার ক্যানসার রেজিস্ট্রির সংগৃহীত তথ্য ও ডেটাবেজ দেশের ক্যানসার বিস্তারের প্রকৃত চিত্র, ঝুঁকির গঠনগত বৈশিষ্ট্য এবং চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল বিশ্লেষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে হেপাটোলজি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রথিতযশা শিক্ষক, গবেষক ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আযম, অধ্যাপক ডা. এবিএম শাকিল গনি, অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. মো. ফজল করিম, অধ্যাপক ডা. মো. মোহছেন চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুজ্জামান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান, ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ এবং ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা।

//ডিবিটেক/আইএমএন/এসএমপি/ওইএম//