আইটি ও টেলিকমে বিপুল ব্যয়ের প্রভাব নেই আন্তর্জাতিক সূচকে! ক্ষুব্ধ উপদেষ্টা

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:০১  

টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি খাতের এডিপি অগ্রগতির ফিডব্যাক নিয়ে হতাশ উপদেষ্টা

বিগত ১০ বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বার্ষিক উন্নয়ন খাতে ৬৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ নিয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু তারপরও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ মিয়ানমার শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম, ভুটান, রুয়ান্ডা, ঘানা ও কেনিয়ার মতো দেশের চেয়েও পেছনে রয়েছে।

বিপুল বিনিয়োগের পরও ডিজিটাল উন্নয়নের বিভিন্ন খাতে এমন পিছিয়ে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এই বিভাগের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। ব্যাপক অনিয়মের কারণেই দেশের মানুষ বিভিন্ন উদ্যোগে ব্যয়িত অর্থের প্রকৃতি সুবিধা পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০১০ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর ফল পাইনি দেশের মানুষ। প্রায় সব জায়গায় দেখা যায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হয় না, এক দু বার সময় বাড়ানোর পরে আবারও সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়। তাই এখন যে কয়েকটি প্রকল্পের সময় বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে তা যেন বুঝে শুনে বাড়ানো হয়।

প্রকল্পগুলো ঠিক মতো শেষ করতে পারলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ খাতে অনেক অগ্রগতি হবে যার সুফল দেশবাসী ভোগ করবে বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। প্রকল্পের ব্যয় কমানো, দীর্ঘসূত্রীতা পরিহার, সফটওয়্যারে সবসময় প্রকল্পের আপডেট দেওয়ার এবং সময়মতো প্রকল্প শেষ করার বিষয়েও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

সোমবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে সচিব ডা.মো. মুশফিকুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং প্রকল্প পরিচালকরা নিজ নিজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন। সেসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের আইসিটি উন্নয়ন সূচকের জুনের প্রতিবেদনের বাংলাদেশ ১০০ মধ্যে ৬২ স্কোর নিয়ে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও ভুটানের পেছনে পড়ে রয়েছে।

একইভাবে ওকলা স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স মে, ২০২৪ এর ইন্টারনেট গতির তালিকায় ১৪৭ দেশের মধ্যে ইন্টারনেট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯ তম এক্ষেত্রে কেনিয়াও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সূচকেও বাংলাদেশ অবস্থান ১০৮। তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, রুয়ান্ডা, ঘানাও বাংলাদেশের উপরে।

আইএমএফ এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি সূচকে জুন, ২০২৪ এ ১৭৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩ তম, তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, রুয়ান্ডা, ঘানাও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স ২০২৩ এর ডিজিটাল জীবনমান সূচকে বিশ্বের ১২১ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৮২ তম এক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়েছে পাঁচ ধাপ। সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ৫% কম। কি গভর্মেন্ট সূচকে বাংলাদেশ তালিকার ৭৩ এ যা বৈশ্বিক গড়মানের নিচে। ই সিকিউরিটি রেংকিংয়ে ৮৫ তম স্থানে এবং ইন্টারনেট ক্রয় ক্ষমতার হিসেবে ৭৭ তম অবস্থানে।

মার্কিন সাময়িকী সিইও ওয়ার্ল্ড এর এপ্রিল ২০২৪ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সিংয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ সেখানে সেরা গন্তব্যের ৩০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৯ নম্বরে। তালিকায় ভারত, পাকিস্তানের পর বাংলাদেশের অবস্থান।

সভায় জানানো হয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের চারটি দপ্তরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট নয়টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে বিটিসিএল পাঁচটি, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড একটি, ডাক অধিদপ্তর দুটি এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল পিএলসি একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। সার্বিকভাবে প্রকল্প পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আইসিটিতে জাতীয় অগ্রগতি ১.০২ শতাংশ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অগ্রগতি ৩.৮৪ শতাংশ।