ভূমি অটোমেশনের কাজ দ্রুত ও নির্ভুল করার নির্দেশ মন্ত্রীর
ঢাকা বিভাগের ১১২ ভূমি অফিসে ডেটা এন্ট্রি সস্পন্ন
- স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমি সেবায় যৌথভাবে কাজ করছে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপি
- ঢাকা বিভাগের ৩ জেলার ৩২ উপজেলার ১১২টি অফিসে সম্পন্ন হয়েছে অটোমেশনের কাজ
- প্রতিটি ইউনিয়নে ৫ দিনের বিশেষ সেবা ক্যাম্পের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল প্রোফাইল
ভূমি সেবাকে শতভাগ স্বচ্ছ, আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে চলমান ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সাথে সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প, ডেটা এন্ট্রির অগ্রগতি এবং শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা (লার্নিং)’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক মতবিনিময় সভায় তারা এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কাজের গুণগত মান কঠোরভাবে বজায় রাখা এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রযুক্তির সুবিধা যেন দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিটি নাগরিক সহজে ভোগ করতে পারে এবং কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় ‘ল্যান্ড ডেটা ডিজিটালাইজেশন ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ফর ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন প্রজেক্ট’-এর কার্যক্রমের ওপর প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিশদ অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের চিত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসাইন এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের সিনিয়র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ও সাবেক মহাপরিচালক আতিকুল হক। উপস্থাপনায় জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি-জুন ২০২৫ (প্রি-পাইলট), আগস্ট-ডিসেম্বর ২০২৫ (পাইলট) এবং ফেব্রুয়ারি-আগস্ট ২০২৬ (দ্বিতীয় পর্যায়) মেয়াদে ঢাকা বিভাগের ৩টি জেলার ৩২টি উপজেলা বা রাজস্ব সার্কেলের মোট ১১২টি ভূমি অফিসে অটোমেশন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রান্তিক ভূমি মালিকদের সেবার আওতায় আনা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিখুঁত ডেটা ম্যাপিং, ম্যানুয়াল নামজারি খতিয়ান সংগ্রহ, হোল্ডিং ও খতিয়ান তথ্য যাচাই-সংশোধন এবং সিস্টেমে চূড়ান্ত ডেটা অন্তর্ভুক্তির কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ভূমি মালিকদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরির সুবিধার্থে প্রতিটি ইউনিয়নে ৫ দিনব্যাপী বিশেষ সেবা ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা ধরে রাখতে ইউএনডিপি তাদের কারিগরি সহায়তা ও নিবিড় তদারকি অব্যাহত রাখবে বলে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
//ডিবিটেক/এমআরকে/এসএমপি/বিপিও//





