ই-জিএসএম তরঙ্গ বরাদ্দে নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্ক নেই: বিটিআরসি
রবি ও বাংলালিংকর একাট্টায় ভাঙনের সুর?
- টেলিযোগাযোগ নীতিমালার আগে ই-জিএসএম স্থগিত চায় বাংলালিংক, দ্রুত বরাদ্দে অনড় রবি
- নীতিমালার সঙ্গে তরঙ্গ বরাদ্দের কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই বলে জানিয়েছে বিটিআরসি
- ৮৮০–৮৮৮.৪ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও ভবনের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্য
টেলিযোগাযোগ খাতের কারিগরি আধুনিকায়ন, গ্রাহকদের ইনডোর নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং ফোরজি সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ই-জিএসএম (৮৮০–৮৮৮.৪ মেগাহার্টজ) তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়ে সহাবস্থান থেকে প্রকাশ্য নীতিগত মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে দুই প্রযুক্তি ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলালিংকের মধ্যে। বছরের শুরুতে শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনের সঙ্গে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলামে অংশ না নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে অন্য ব্যান্ডে তরঙ্গ চেয়েছিল প্রতিযোগী দুই অপারেটর। তবে মাত্র আট মাসের ব্যবধানে ই-জিএসএম তরঙ্গ বরাদ্দ ঘিরে তাদের কৌশলগত ঐক্যে ফাটল ধরেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের তরঙ্গসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) চিঠি পাঠায় বাংলালিংক। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর পৃথক চিঠিতে নীতি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে এই তরঙ্গ অবমুক্তের জোর দাবি জানায় রবি আজিয়েটা।
চিঠিতে বাংলালিংক জানায়, প্রস্তাবিত নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিতে সক্রিয় অবকাঠামো ও স্পেকট্রাম ভাগাভাগি (শেয়ারিং) এবং এমভিএনও চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত বিষয় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নীতি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই নতুন তরঙ্গ বরাদ্দ বা বিদ্যমান তরঙ্গ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে তরঙ্গ খণ্ডিতকরণ বা অদক্ষ ব্যবহারের কারিগরি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান ডিজিবাংলাটেকডটনিউজকে বলেন, বাংলালিংক কাভারেজ ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ই-জিএসএম স্পেকট্রামের কার্যকর ব্যবহারের পক্ষে থাকলেও এ ধরনের বরাদ্দের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় আগামী নভেম্বরের চূড়ান্ত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করাই যুক্তিসঙ্গত হবে।
বিপরীত অবস্থান তুলে ধরে রবি জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ নীতি চূড়ান্ত না হওয়া ই-জিএসএম স্পেকট্রাম বরাদ্দে কোনো কারিগরি বাধা হতে পারে না। রবি আজিয়াটা পিএলসির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার (সিসিআরও) ও কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহেদুল আলম ডিজিবাংলাটেকডটনিউজকে বলেন, তরঙ্গের চাহিদা মূলত প্রতিটি অপারেটরের নেটওয়ার্ক স্থাপত্য, গ্রাহকের চাপ এবং বাণিজ্যিক পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজনীয় তরঙ্গ দ্রুত বরাদ্দ পেলে শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলেই ইনডোর সংযোগ এবং ডিজিটাল সেবার নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খণ্ডিতভাবে বরাদ্দ না দিয়ে স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনার দক্ষতা রক্ষায় ধারাবাহিক বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে রবি, যা তাদের ভবিষ্যৎ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোতে প্রয়োজনীয় মূলধনী বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
দুই অপারেটরের দ্বিমুখী অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ এমদাদ উল বারী (অবঃ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানান, ই-জিএসএম তরঙ্গ বরাদ্দের সঙ্গে আসন্ন টেলিযোগাযোগ নীতির কোনো সরাসরি সম্পর্ক বা বিরোধ নেই। নতুন নীতিমালাটি মূলত লাইসেন্সিং ও প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক সংস্কারকেন্দ্রিক হওয়ায় স্পেকট্রাম প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা দেখছে না কমিশন। তাছাড়া বর্তমানে কার্যকর টেলিযোগাযোগ নীতি অপরিবর্তিত থাকায় বাংলালিংকের চিঠির কারণে ই-জিএসএম নিলাম ও বরাদ্দের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ গ্রাহকের বাংলালিংক এবং ৫ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের রবির মতো অপারেটরদের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বহুতল ভবনের অভ্যন্তরে ফোরজি সংযোগ স্থিতিশীল করতে গত এপ্রিল মাসে ৮৮০–৮৮৮.৪ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের এই নিলামের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিটিআরসি।
//ডিবিটেক/একেএফ/এমআইএসটি/আইএইচ//





