স্থায়ী বরখাস্ত হচ্ছেন বিটিআরসির উপ-পরিচালক আমজাদ
নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে শতকোটি টাকার এফডিআর। স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনের নামে ঢাকা শহরে রয়েছে ১০টি ফ্ল্যাট ও ৫০ শতাংশ জমি। বিল-ভাউচার না দিয়ে প্রশাসনিক ব্যয়ের ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে তছরুপ করেছেন ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৮ টাকা। বন্ধ কিছু করপোরেট সিম সচলের আশ্বাস দিয়ে আবুল বাসার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়েছেন ৫ লাখ টাকার ঘুষ। নিবন্ধনহীন শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে টেলিকমিউনিকেশন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস সেবার অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের খুলে দিয়েছেন রাজস্ব ফাঁকির পথ।
তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আমজাদ হোসেন নিপু। তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছে বিটিআরসি’র তদন্ত কমিশন।
গত ২৫ আগস্ট বিটিআরসির কমিশন সভার কার্যবিবরণীতে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয় ছাড়াও তার বিরুদ্ধে কর্মচারীদের নিপীড়ন ও নিষ্পেষণের অভিযোগও রয়েছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন সভায় আমজাদ হোসেনকে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, কমিশনের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের (সাময়িক বরখাস্ত) বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ এবং বিধি ৩(ঘ) অনুযায়ী দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার বিধি ৪(৩)(ঘ) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২-এর বিধি ৪৯(১)(খ)(উ) অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমজাদ হোসেন বলেছেন, ভিত্তিহীন প্রতিবেদন করা হয়েছে। বরখাস্তের চিঠি হাতে পেলে পদক্ষেপ নেবেন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অসদাচরণের ১৪টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে মধ্যে পাঁচটির সত্যতা পেয়েছে কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ আগস্ট আমজাদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে সারাদেশে ১০ হাজার লোক মাঠে নামানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠে আন্দোলন ঠেকাতে আইএসপি লাইসেন্সধারীদের মাঠে না নামলে লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়েছিলেন তিনি। আর ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে বিটিআরসিতে নিয়োগ পেয়েই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন। এসব অভিযোগ তদন্তে বিটিআরসির মহাপরিচালক (এসএম) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিটিআরসি।
প্রসঙ্গত, বিটিআরসি’র সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে গত ২৬ আগস্ট রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ সাতজনের নামে ১০ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৫২ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়।



