ইন্টারনেটে এখন মানুষের চেয়ে বটের দাপট বেশি
ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় দ্রুত পেজ চালু হওয়ার বদলে সামনে হাজির হয় এক বিরক্তিকর ধাঁধা। হয়তো সেখানে কয়েকটি ঘোলাটে প্রাণীর ছবি দিয়ে বলা হয়, লাল পটভূমিতে থাকা গরুর মতো খাদ্যাভ্যাস আছে এমন প্রাণীটি খুঁজে বের করুন। আপনি হয়তো ভাবতে বসেন, ওটা কি ঘোড়া নাকি সিংহ? পেলিক্যান পাখি কী খায়? শেষে একটি ভেড়ার ছবিতে ক্লিক করে আপনি প্রমাণ করেন যে আপনি একজন মানুষ। এই প্রক্রিয়ায় আপনার মহামূল্যবান কয়েক সেকেন্ড সময় নষ্ট হয়। আর ভুল হলে তো পুরো প্রক্রিয়াটি আবার শুরু করতে হয়।
বটের দাপটে বদলে যাচ্ছে ইন্টারনেট
ক্যাপচা নামের এই ধাঁধাগুলো ইন্টারনেটের শুরুর দিক থেকেই আছে। কিন্তু বর্তমানে সাইবার হামলাকারী বট এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের কারণে এই পরীক্ষাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইমপারভার মতে, গত কয়েক বছরে ইন্টারনেটে মানুষের চেয়ে বটের আনাগোনা অনেক বেড়ে গেছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে প্রশিক্ষিত করতে এসব বট প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে, যা পুরোনো সব হিসাবনিকাশ পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।
ক্যাপচার ফাঁদে সাধারণ মানুষ
বটের আক্রমণ থেকে বাঁচতে ওয়েবসাইটগুলো এখন মরিয়া। ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন প্রায় ৭৭০ কোটি বার বট ঠেকানোর পরীক্ষা চালায়। কিন্তু বটগুলো এখন এতটাই উন্নত যে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেছেন, গুগলের রিক্যাপচার মতো ধাঁধাগুলো মেশিন লার্নিং বা যন্ত্রের মাধ্যমে শতভাগ নির্ভুলভাবে সমাধান করা সম্ভব। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাপচাকে আরও জটিল করছে।
এখন হয়তো আপনাকে বলা হয় এমন দুটি ছক্কা বেছে নিতে, যার যোগফল সাত হবে; কিংবা মূল খাবারের ছবিগুলো চিহ্নিত করতে। এই কঠিন ধাঁধাগুলো মেলাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এক হিসাবে দেখা গেছে, ক্যাপচা মেলাতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মানুষের প্রায় ৫০০ বছর সময় নষ্ট হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ লড়াইয়ে হারছে মানুষ
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিন সুডিকের মতে, ক্যাপচার এই লড়াইয়ে মানুষ আগেই হেরে গেছে। এই সমস্যার সমাধানে রেডিটের মতো কিছু ওয়েবসাইট এখন পুরোনো তথ্য দেখার জন্য ব্যবহারকারীদের লগ-ইন করা বাধ্যতামূলক করেছে। তবে বটগুলোকে না থামালে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটগুলো ট্রাফিকের চাপে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।
তাই ওয়েবসাইট সচল রাখতে এই ধরনের বিরক্তিকর নিরাপত্তার স্তরগুলো চলতেই থাকবে। ইন্টারনেটে মানুষ এখন সংখ্যালঘু, আর নিজেদের মানুষ হিসেবে প্রমাণ করাটা সামনে আরও অনেক বেশি কঠিন হতে যাচ্ছে।
ডিবিটেক/বিএমটি





