টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত
রাঙামাটিতে ওয়াশব্লক প্রকল্পে দুদকের অভিযান
- ওয়াশব্লক প্রকল্পের টেন্ডারে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক
- সর্বনিম্ন দরদাতার বদলে উচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি
- নথি সংগ্রহের পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন ও নমুনাভিত্তিক যাচাই হবে
রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন ওয়াশব্লক নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার, কার্যাদেশ ও দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলবের পাশাপাশি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তব নির্মাণকাজ যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তে কোনো কোনো টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে উচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানান।
৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেন, সহকারী পরিদর্শক আবু সাদেক, উপ-সহকারী পরিচালক মামুন ও বোরহান উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন শহরের বিভিন্ন ওয়াশব্লক নির্মাণ প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে। এ সময় প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ, দরপত্র মূল্যায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করা হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ফাইল ও নথিপত্র দুদক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও কর্মকর্তারা জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে উচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হলেও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।
দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেন বলেন, ওয়াশব্লক নির্মাণে কার্যাদেশ প্রদানসহ ঘুষ গ্রহণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে কিছু নথিপত্র পাওয়া গেছে। আরও কিছু রেকর্ডপত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি ওয়াশব্লক নির্মাণের প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন ও নমুনাভিত্তিক যাচাই করা হবে।
এ বিষয়ে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া বলেন, দুদক কর্মকর্তাদের চাওয়া প্রকল্পের যাবতীয় ফাইল ও নথিপত্র তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।
//ডিবিটেক/ডিজেআরপি/এসএমপি/ডিপিও//





