আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নতুন পদক্ষেপ

বিপজ্জনক রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণে রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশ

  • বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা
  • কনভেনশনে যুক্ত হলে রাসায়নিকের ঝুঁকি যাচাই ও আমদানি সিদ্ধান্তে সুবিধা মিলবে।
  • রাসায়নিকের তথ্যভান্ডার, গতিবিধি অনুসরণ ও কারিগরি সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে।

বিপজ্জনক রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণে রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৫  

বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক আমদানি-রপ্তানির আগে সেগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। এ লক্ষ্যে ‘রটারডাম কনভেনশন’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে রাসায়নিকের ঝুঁকি যাচাই, আমদানি-রপ্তানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্যভান্ডার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

১৮ অক্টোবর, রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটির উদ্যোক্তা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অনেক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক রয়েছে, যেগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আগে থেকে জানা প্রয়োজন। এসব রাসায়নিকের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর সেগুলো আমদানি করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে কনভেনশনে যুক্ত হলে।

তিনি জানান, এটি একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন, যেখানে অনেক দেশ ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এতদিন এর বাইরে ছিল। সরকার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। এখন বাংলাদেশ কনভেনশনটিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে রটারডাম কনভেনশন গ্রহণ করবে।

১৬৭ দেশের আন্তর্জাতিক চুক্তি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’ ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গৃহীত হয়। বিপজ্জনক, নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ রাসায়নিকের আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক এই কনভেনশন ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়। বর্তমানে ১৬৭টি দেশ এর সদস্য। বাংলাদেশ ও ভুটান ছাড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সব দেশ ইতিমধ্যে কনভেনশনটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কনভেনশনে যুক্ত হলে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। বিপজ্জনক রাসায়নিকের তথ্যভান্ডার তৈরি এবং এসব রাসায়নিকের গতিবিধি অনুসরণেও সহায়তা মিলবে।

কনভেনশনের তৃতীয় পরিশিষ্টে তালিকাভুক্ত রাসায়নিকের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর যৌথ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে।

বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি তথ্য বিনিময়

কনভেনশনের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক-সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও আইনি তথ্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময় করতে পারবে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিভিন্ন সদস্য দেশ ও কনভেনশন সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। কনভেনশনের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রটারডাম সচিবালয় থেকে কারিগরি সহযোগিতাও নিতে পারবে বাংলাদেশ।

কনভেনশনে অন্তর্ভুক্তির ফলে রাসায়নিকের ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিপজ্জনক রাসায়নিকের ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
//ডিবিটেক/জেএনওআর/এসএমপি/এমএসআই//